Cvoice24.com

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ভোটের মাঠে ইসলামী ফ্রন্ট!

মিনহাজ মুহী

প্রকাশিত: ১২:২৪, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ভোটের মাঠে ইসলামী ফ্রন্ট!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরেই বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের অবস্থান পোক্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির চেয়ারম্যান এম এ মতিন। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে ওই দুটি আসন ছাড়াও আরো চার আসনে জয়ের আশা রয়েছে দলটির। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে ইসলামী ফ্রন্ট ভোটের মাঠে নেমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন বলেন, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আমরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শুধু আওয়ামী লীগকে মনে করছি। বাকি অন্য দলগুলো আমাদের সঙ্গে পেরে উঠবে না। এছাড়া, যদি বিএনপি নির্বাচনে আসতো; তাহলে একটা বিষয় হতো। তারা যদি থাকতো; তাহলে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিন্তা করতাম। যেহেতু বিএনপি আসেনি; সেহেতু আওয়ামী লীগের পরই আমরাই বড় শক্তি।’

পটিয়ায় প্রার্থিতা হারানো প্রসঙ্গে এম এ মতিন বলেন, ‘একটি অপ্রত্যাশিত ভুলের কারণে পটিয়া আসনে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে আপিল করা হয়েছে। সেটার শুনানি আগামী ১২ ডিসেম্বর। আশা করি প্রার্থিতা ফিরে পাবো।’

‘অপ্রত্যাশিত ভুল’ এর বিষয়টি ব্যাখা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার একটি আবাসিক প্রজেক্ট আছে। ওই প্রজেক্টের মধ্যে একটা প্লট ২০১০ সালে বিক্রি করে দিয়েছিলাম।  প্লটটির একটি বৈদ্যুতিক মিটার ছিল। যাদের কাছে জায়গা বিক্রি করেছি তারা মিটার থেকে আমার নাম পরিবর্তন করেনি। এখন সেটার কিছু বকেয়া ছিল, সেটাও তারা পরিশোধ করেনি। সেটা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে গেছে। পরে যাচাই-বাছাইয়ের দিন বিদ্যুৎ অফিস থেকে কল দিয়ে জানানো হয়, ওই মিটারের টাকা বকেয়া আছে। তখনই আমি প্লটের মালিককে (যার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল) কল দিয়েছি। তাদের বলেছি— আপনারা আমার কাছ থেকে জায়গা নিয়েছেন ১৪ বছর আগে। অথচ এখনও মিটারের নাম পরিবর্তন করেননি। পরে তারা ভুল স্বীকার করে এবং বিলের টাকাও পরিশোধ করে দিয়েছেন। তাই এটা আইনগত কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু আমি জায়গা বিক্রি করেছি ১৪ বছর আগে। এ বিষয়টি আমি আপিলে জানিয়েছি।’ সেই প্রেক্ষিতে আপিলের শুনানিতে পটিয়া আসনের প্রার্থিতা ফিরে (বৈধ বলে ঘোষণা) পাবেন বলে আশাবাদি বলেও জানান তিনি।

ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন আরও বলেন, ‘গতবারে (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) সারাদেশে আমরা ২৬ জন প্রার্থী দিয়েছিলাম। তবে এবার (দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) সেই সংখ্যা বেড়েছে। সারাদেশে আমরা ৩৯ জন প্রার্থী দিয়েছি। এছাড়া দলের চট্টগ্রামে প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন।’

সুষ্ঠু ভোট হলে সারাদেশে ৬টি আসনে ইসলামী ফ্রন্ট জিতবে বলেও দাবি করেন এম এ মতিন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) এবং কক্সবাজার-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ ও লালমনিরহাট-১ আসনে ইসলামী ফ্রন্টের অবস্থান খুবই ভালো । 'এ ছয়টি আসনে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হবো।’- যোগ করেন এম এ মতিন। 

বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মতিন বলেন, ‘একটি পক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, বর্তমানে দেশি-বিদেশি অপশক্তি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনীতির উপর আঘাত করার জন্য একটা গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। ওই ষড়যন্ত্র  ঠেকাতে  আমরা আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি; একপ্রকার বাধ্য হয়ে। আমরা মনে করি, আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করব।  এখানে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চাই না।'

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা তাঁকে বলেছি,  বিগত সময়ে নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠেছে। এবার যাতে মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এবং মানুষ যাতে নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে, ভোট যেন গ্রহণযোগ্য হয়; সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আমাদের এ দাবির প্রেক্ষিতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আশ্বস্ত করেছেন— নির্বাচন পরিপূর্ণভাবে নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হবে। মানুষ যাকে ইচ্ছে তাকে সমর্থন করবে, ভোট দেবে। তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) এ প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা আশাবাদি প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস যদি সত্যি হয়— ইনশাআল্লাহ, আমরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবো।’

সর্বশেষ