Cvoice24.com

‘শান্তিচুক্তি পাহাড়ে এনেছে শান্তি, ২৬ বছরে বদলে গেছে দৃশ্যপট’

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩
‘শান্তিচুক্তি পাহাড়ে এনেছে শান্তি, ২৬ বছরে বদলে গেছে দৃশ্যপট’

শান্তিচুক্তির ২৬ বছরে পাহাড়ের দৃশ্যপট বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।

তিনি বলেন, প্যারিস শান্তিচুক্তি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলেও আমাদের এই চুক্তি বিশ্বে মডেল মাইলফলক। পৃথিবীর অনেক জায়গায় বিভিন্ন শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এ শান্তিচুক্তি অনন্য।

চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন চবি উপাচার্য।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৬ বছর পূর্তি: শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নিরিখে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব’ শিরোনামে এ আলোচনা সভা হয়।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকালের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক, চবি জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বশির আহাম্মদ, চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। 

অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, এক সময় আমরা শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামে মৃত্যুর খবর শুনতাম। খুব খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একটা সময় পার হয়েছি। সে সময় সেনাবাহিনী বাড়ি থেকে পার্বত্য অঞ্চলের উদ্দেশ্যে বের হতো বিদায় নিয়ে। তারা জানতো না আবার বাড়িতে ফিরতে পারবে কি না। কিন্তু আজকে আমরা এ অঞ্চলগুলোতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে যাই। এখন সেই অসময় কেটে গেছে। প্যারিস শান্তিচুক্তি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলেও আমাদের এই শান্তিচুক্তি বিশ্বে মডেল হিসেবে তৈরি হয়েছে।  

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছেন। এ চুক্তির ফলে গত ২৬ বছরে অনেকগুলো সুফল দেখেছি আমরা। এখন আমরা পার্বত্য অঞ্চলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারছি। বর্তমান সরকার উপজাতিদের জন্য কোটা সিস্টেম চালু করেছে। আমরা দুটি আবাসিক হলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।

উপাচার্য বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন নির্বাচনী সুবাতাস বইছে। সবাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে একত্রিত হয়েছে। এই সংসদ সদস্যরাই যেন আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারে সে বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। তাই আমরা মনে করি পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধির জন্য আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবারও আসা দরকার।

চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ বলেন, দীর্ঘ অশান্তি ও সংঘাতের পরে এই অঞ্চলে শান্তি এসেছে ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির মাধ্যমে। এই চুক্তি করায় আমরা ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার পাবেন। তবে তিনি ইউনেস্কোর শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। সেখানে বর্তমানে সংঘাত চললেও আগের থেকে কমে এসেছে। এই চুক্তির পক্ষে বিপক্ষে নানান যুক্তি রয়েছে। এখন হুমায়ুন আজাদের কথিত সেই ‘সবুজ পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে হিংসার ঝর্ণাধারা’ এখন আর নেই। সেখানে শান্তি সম্প্রীতির সুবাতাস বইছে সেখানে। 

চবি জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক ড. বশির আহাম্মদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনীতি, বৈচিত্র্যতা, ভাষা ইত্যাদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলের শাসকরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অথনৈতিক বিভিন্ন ভাবনা ভেবেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় দুই দশকের বেশি অশান্তি বিরাজ করেছে। এই অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন জনসংহতি সমিতির সাথে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি হওয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। চাঁদাবাজি এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটাচ্ছে তারাই। শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক থাকায় সমস্যা হচ্ছে না। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে নির্বাচন হলে জনগণ তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করতে পারবে।

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের সংঘাত নিরসন হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তিচুক্তির মাধ্যমে। এটি সাংবিধানিক একটি কাঠামোর মাধ্যমেই হওয়া শান্তিচুক্তি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ ছাড়াই এ শান্তিচুক্তি করতে সক্ষম হয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এই চুক্তির ৭২টি অনুচ্ছেদে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে একটি বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকার ফিরে পাওয়া, মিলিটারি ক্যাম্প প্রত্যাহার, বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিসহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো এ চুক্তিতে। এ ধরনের একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করা অনেকটাই সময়সাপেক্ষ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এ শান্তিচুক্তি হওয়ার পরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষাখাত, আইন সংশোধনসহ অনেক কাজ করা হয়েছে। ২০১০ সালে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক যে কালচার, সেটা সংরক্ষণের জন্য আইন করা হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পিছিয়ে পড়া জনগণের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তাই সংবিধান অনুযায়ী কারও প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। কোনো সমস্যা থাকলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। শান্তিচুক্তির কিছু বিষয় এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। আশাকরি সেগুলোও নিষ্পত্তি হবে। আমরা যদি দেশের অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি অর্জন করতে চাই, তাহলে সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাকরি একটু সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়