Cvoice24.com

বিদেশে গমনেচ্ছুকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা/
অতিরিক্ত টাকা নিতে রিপোর্টে ফিটরাও আনফিট!

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০৯, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
অতিরিক্ত টাকা নিতে রিপোর্টে ফিটরাও আনফিট!

বিদেশে কর্মী ভিসায় যাওয়া গমনেচ্ছুকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর একটি নগরের খুলশী এলাকার গ্রীন ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তবে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে ‘ভুল রিপোর্ট’ দেওয়ার অভিযোগ।

ফিট থাকার পরেও রোগীদের রিপোর্ট দিচ্ছে ‘আনফিটের’। একইসঙ্গে আদায় করছে অতিরিক্ত ফি’ও। এ অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতাও খুঁজে পেয়েছে সিভিল সার্জন অফিস।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী ভিসায় বিদেশে যেতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ যাওয়া কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ১৩টি প্রতিষ্ঠান। তারমধ্যে একটি গ্রীন ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিদেশে গমনেচ্ছুক কর্মীরা শারীরিকভাবে কর্মক্ষম কিনা তা অনুসন্ধানের জন্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। কিন্তু তাদের দেওয়া ‘ভুল’ রিপোর্টের কারণে বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে গমনেচ্ছুক কর্মীদের। সিভিল সার্জন অফিসে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ গেলে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। এসময় গ্রীন ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেখাতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগকে।  

সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট না দিয়ে কেবল ট্রাভেল এজেন্টের দেওয়া ফরম পূরণ করেই এক্সেল শিটে রোগীদের ‘ফিট আনফিটের’ তথ্য রাখে গ্রীন ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি। প্রত্যেক রোগীর যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তার কোনো তথ্যই স্বাস্থ্য বিভাগকে দেখাতে পারেনি এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার।   

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী সিভয়েসকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। ফিট হলেও রোগীদের আনফিট বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। যেহেতু তারা রোগীদের জন্য আলাদা রিপোর্ট তৈরি করে না তাই এ ধরনের কাজ করা সহজ। আমরা অধিদপ্তরকে জানাবো। এ ধরনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সর্তক করে এসেছি। যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স অধিদপ্তর দেয়। আমরা অধিদপ্তরকে জানাবো ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। কারণ তারা একটা এক্সেল শিটে খালি হ্যাঁ-না লিখে রাখছে। রোগীর পূর্ণাঙ্গ প্যাথলজি রিপোর্ট নাই। প্যাথলজি পরীক্ষায় কী পেলো তা জানার অধিকার আছে প্রত্যেকের। এখন আদৌ তারা পরীক্ষা করিয়ে ফিট বলছে নাকি না করিয়ে আনফিট বলছে সেটাই সন্দেহ।’

এদিকে, রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালগুলোতে অভিযান শুরুর নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপরই চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথমদিনে নগরের গোল পাহাড় মোড় এলাকার হেলথ পয়েন্ট হসপিটাল লিমিটেড, বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর এবং ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযান চালায়। এসময় মূল্য তালিকা দৃশ্যমান না পাওয়ায় ম্যাক্স হাসপাতালকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল্যতালিকা ঝুলানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অপরিচ্ছন্নতার কারণে হেলথ পয়েন্ট হসপিটাল লিমিটেডকে সাতদিনের সতর্কতা নির্দেশ দেওয়া হয়।

-সিভয়েস/এসআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়