Cvoice24.com

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মগোপনে দুই ভাই, ৬ বছর পর ধরা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:১১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মগোপনে দুই ভাই, ৬ বছর পর ধরা

গ্রেপ্তার মো. মাজাহার ইকবাল ও মো. জাফর ইকবাল।

৬ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরের দিদার মার্কেটের বিপরীতে মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিংয়ের ১০ তলা ভবন নির্মাণের কথা বলে দুইভাই মিলে বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি টাকা ঋণ নেন। পরে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ৮ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করে বাকী নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তারা। কিন্তু ছয় বছর ধরে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে দুইভাইকে ধরা পড়তে হয়েছে পুলিশের জালে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের গাঁছা থানার বটকলী এলাকা থেকে ছোট ভাই মো. জাফর ইকবাল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের জোড় পুকুরপাড় এলাকা থেকে বড় ভাই মো. মাজাহার ইকবাল খানকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. মাজাহার ইকবাল খান (৫০) ও মো. জাফর ইকবাল খান (৪০) দুইজনে সম্পর্কে ভাই। তারা  ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ ইকবাল খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ছয় বছর আগে হাজী মোহাম্মদ ইকবাল খান মারা যাওয়ার পর বাবার রেখে যাওয়া দিদার মার্কেটের বিপরীত পাশের জায়গায় ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেখানে তারা মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং ১০ তলা ভবন নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটি টাকার ঋণ নেন। ঋণের টাকা দিয়ে ৮ম তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের পর কাজ বন্ধ করে দেন তারা। পরে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় দুই ভাই চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যান। বড় ভাই মাজাহার কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোর্ট থানাধীন জোড় পুকুরিয়া গ্রামে আত্মগোপন করেন। সেখানে তিনি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। অন্যদিকে তার ছোট ভাই জাফর গাজীপুর জেলার গাঁছা থানাধীন মেট্রিক্স স্টাইলস লিমিটেড কোম্পানিতে একাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতেই দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আত্মগোপন ছিলেন।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, ভবন নির্মাণের কথা বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-ব্যক্তি থেকে ঋণ নেন। পরে তা পরিশোধ করতে না পেরে দুই ভাই আত্মগোপনে চলে যান। পরে দুই ভাইয়ের আত্মগোপনে থাকা লোকেশনের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই ভাইয়ের মধ্যে মাজাহারের বিরুদ্ধে ১৩টি সাজা ও ৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং জাফরের বিরুদ্ধে ৭টি সাজা ও ৬টি গ্রেপ্তার পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান ওসি।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়