Cvoice24.com

বাঁশখালীতে কবরস্থান পরিষ্কারের নামে বাগানের গাছ কেটে সাবাড়

বাঁশখালী প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৬:১০, ১৯ নভেম্বর ২০২৪
বাঁশখালীতে কবরস্থান পরিষ্কারের নামে বাগানের গাছ কেটে সাবাড়

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কবরস্থান পরিষ্কারের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগান থেকে অর্ধ শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব পালেগ্রাম পাহাড়ি এলাকা থেকে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়। তবে পুলিশ বিষয়টা স্পর্শকাতর জেনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছে। 

জানা গেছে, বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব পালেগ্রাম এলাকায় ৮ গণ্ডা জায়গার ওপর একটি পুরাতন কবরস্থান রয়েছে। এর পাশেই ছলিম উল্লাহ ও মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াছিনসহ স্থানীয় ৫ ব্যক্তির বাগান ও জায়গা রয়েছে। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বন্দোবস্তিমূলে তারা ওইসব জায়গায় বিভিন্ন বাগান গড়ে তোলেন।

 

কিন্তু ৫-৬ দিন আগে থেকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই বাগানের গাছ কাটতে শুরু করেন। তারা প্রথমে কবরস্থান পরিষ্কার করার কথা বললেও পরবর্তীতে আশপাশের কয়েক কানি জায়গার গাছ কেটেও সাবাড় করেন তারা। গত ১৩ নভেম্বর গাছ কাটার সময় ছলিম উল্লাহর ৭টি বড় লিচু গাছসহ বেশ কিছু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় বাঁধা দিলে তার উপর হামলা চালানো হয়।

 

এ ঘটনায় আহত ছলিম উল্লাহ সওদাগর জানান, কবরস্থানটি এলাকার সকলের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি পরিষ্কার করতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে কিছু খারাপ লোক আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের গাছ কেটে ফেলেন। আমি বাঁধা দিলে তারা আমাকেও মারধর করেন। 

একই কথা জানান ক্ষতিগ্রস্ত মাওলানা ইয়াছিন ও মৌলানা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ আহম্মদ ও আমানুল্লাহও। তারা বলেন, কবরস্থান পরিষ্কার বা কাউকে কবর না দিতে আমরা কখনো না করিনি। কবরস্থান সার্বজনীনভাবে আছে ও থাকবে। কবরস্থান থেকে বাগানের দূরত্ব অনেক। তারা সেই বাগান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ বছরের পুরনো অনেকগুলো ফলজ গাছ কেটে ফেলেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে মূলত তারা এ কাজটি করেছে। 

এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার এসআই পেয়ার আহমদ জানান, জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বিষয়টা স্পর্শকাতর বুঝতে পেরে তাদেরকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছি।

 

কালীপুর বিট কর্মকর্তা মিন্টু কুমার দে বলেন, কবরস্থান পরিষ্কারের নামে সরকারি খাস জায়গা থেকে গাছ কাটার কথা শুনেছি। বন বিভাগের কাছ থেকে কেউ কোন অনুমতি নেয়নি। আমি এই মুহূর্তে বাঁশখালীর বাইরে অবস্থান করছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর