Cvoice24.com

৫৭ ব্যাচের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর মিলনমেলা
মিরসরাই সরকারহাট এন আর উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী

মিরসরাই প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
২১:১৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২৫
মিরসরাই সরকারহাট এন আর উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সরকারহাট এন.আর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী দিনব্যাপি না অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে শুরু হয় দিনে কর্মসূচি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‍্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শেষ হওয়ার পর দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। 

এরপর মূল অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রিয়তোষ নাথের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরিয়াল ফেলো ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর এ. জে. এম. শহীদুল্লাহ, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার প্রফেসর শামস উদ দোহা। অনুষ্ঠানে স্কুল প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান, স্বীকৃতিস্বরুপ মরণোত্তর সম্মাননা, মেধা তালিকা ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও বিশিষ্টজনদের স্মৃতিচারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও বক্তব্য, উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষকবৃন্দের সম্মাননা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যাফেল ড্র। 

মোহাম্মদ শওকত ইকবালের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ করেন এডিশনাল আইজিপি ড. মেজবাহ উন নবী, প্রফেসর ডা. কাজী আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রাক্তন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান, ছড়াকার আহমেদ জসিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব পুলক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি ডিপার্টমেন্টের এসোসিয়েট প্রফেসর তাপস কুমার ভৌমিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ চৌধুরী, লায়লা আরজুমান বানু, শহীদুল ইসলাম রুবেল। 

এতে ১৯৯৩ ব্যাচের স্বাগতম বড়ুয়া বলেন,‘৩২ বছর পর আমার প্রাণের বিদ্যাপিঠে আসলাম। পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হলো। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সব ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি আমাকে নতুন করে ফিরিয়ে নিয়ে গেল স্কুল জীবনে।’

৬৮ ব্যাচের কৈলাশপতি কর্মকার বলেন, ‘নিজের ৮৪ বছর বয়সে আজ আমার বিদ্যাপিঠে এসে আমি সেই শৈশব কৈশোর ফিরে গেলাম। যদিও আমার ব্যাচের সবাই আসতে পারেনি। ৮ থেকে ১০ জন বন্ধু এসেছে। তাদের সঙ্গে কৈশোরে কাটানো স্মৃতিগুলো আজ আবারও মানসপটে ভেসে উঠলো। জীবনের জন্য এমন মিলনমেলা খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই স্কুলে শুধু তিনিই নন, তার ছেলে, মেয়ে এবং নাতি নাতনিও পড়েছেন।’

২০০৮ ব্যাচের আরশেদ আহমেদ বলেন, ‘এতো বছর পর বন্ধুদের পেয়ে আবেগাআপ্লুত হয়েছি। আমি মনে করি এই স্কুল উপজেলার একটি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি এখনও যে আন্তরিক এটা আসলে বিরল।’

২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নোমান বলেন, ‘এই পুনর্মিলনীতে না আসলে অনেককিছু অজানা থেকে যেতো। এই স্কুলে যে এতো কৃতি সন্তান আছেন। যাদের অধিকাংশই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এখানে পড়াশোনা করে।’

পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, মিরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নজর আলী রূপজান উচ্চ বিদ্যালয়। যে বিদ্যাপীঠে সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মেধাবী ছাত্রছাত্রী। যারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন। এভাবে দীর্ঘ ৮৬ বছর ধরে জ্ঞান বিতরণ করা হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা প্রাণের মিলন মেলায় মিলিত হয়েছেন। এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেছে স্কুলের ৫৭ ব্যাচের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। 

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর