Cvoice24.com

সব পাঠ্যবই এখনো পায়নি শিক্ষার্থীরা, দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষা

শারমিন রিমা, সিভয়েস২৪
১১:২৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
সব পাঠ্যবই এখনো পায়নি শিক্ষার্থীরা, দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষা

নতুন শিক্ষাবর্ষের একমাস কেটে গেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো সব বই উঠেনি। কেউ ‍তিনটি, আবার কেউবা পেয়েছে মাত্র দুটি বই। এমনকি বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিকের বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীর অনেকেই এক থেকে তিনটি করে বই পেলেও, ইংরেজি ভার্সনের বই যায়নি একটিও। আর মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের নবম-দশম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক বই আসেনি একটিও। বাকিদের বেশিরভাগই পেয়েছে মাত্র তিনটি করে বই। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব বই পেতে ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সব পাঠ্যবই হাতে পেতে আরও দীর্ঘ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময়। এর ফলে সময়সূচি মেনে ক্লাস না হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ফলে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি হতে পারে বলেও মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। 

এদিকে, চট্টগ্রামে প্রাথমিক স্তরের চাহিদার ৬৪ শতাংশ বই এসে পৌঁছেছে। আর মাধ্যমিকের বই এসেছে সবেমাত্র ৩০ শতাংশ। এর আগে, গত বছরের আগস্টে উদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাঠ্যবইয়ে সংযোজন ও বিয়োজন এবং পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যাদেশ দিতে দেরি হওয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই আসেনি নির্ধারিত সময়ে। যদিও এর আগে জানুয়ারির মধ্যে সব বই পাবার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। তবে, শিক্ষার্থীদের যাতে পড়াশোনায় সমস্যা না হয়; সে জন্য শিক্ষকদের এনসিটিবির ওয়েবসাইটে দেওয়া পাঠ্যবই সংগ্রহ করে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ারও পরামর্শ দেয় কর্তৃপক্ষ। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ছয় থানা শিক্ষা অফিসের মধ্যে চান্দগাঁও ছাড়া বাকি পাঁচ থানা শিক্ষা অফিসে প্রাক প্রাথমিকের শতভাগ বই এসেছে। আর ১৫ উপজেলার মধ্যে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী উপজেলাতে এখনো পর্যন্ত আসেনি একটি বইও। বাংলা মাধ্যমের কেবল চন্দনাইশ উপজেলা এবং পাহাড়তলী থানা শিক্ষা অফিসের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলো শতভাগ বই পেয়েছে। বাকি থানা শিক্ষা অফিসের মধ্যে বেশিরভাগই চাহিদার ৪০ থেকে প্রায় ৭০ শতাংশের মতো বই পেয়েছে। 

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আব্দুর রহমান সিভয়েস২৪'কে বলেন, ‘আমরা এতোদিন বলছিলাম জানুয়ারির মধ্যে সব বই পাবো। কিন্তু পাইনি। তবে বেশিরভাগই আসছে। অল্পকিছু বাকি আছে। আমাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ বই এসে পৌঁছেছে। আশা করছি, বাকি বইও আমরা এরমধ্যে পেয়ে যাবো।’

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে মাধ্যমিক স্তরে বইয়ের চাহিদা রয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৩ কপি। এর মধ্যে ইবতেদায়ি, দাখিল, দাখিল ভোকেশনাল, মাধ্যমিক ভোকেশনাল, মাধ্যমিক বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন মিলে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৪ জন। অথচ সবেমাত্র বই এসেছে ৫৩ লাখ অর্থাৎ চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ। এরমধ্যে কেবল ষষ্ঠ, ও দশম শ্রেণির সব বই এসেছে। সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির তিনটি করে বই এসেছে। 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা সিভয়েস২৪'কে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের চাহিদার ৫৩ লাখ বই এসেছে। এখনো বই আসছে। দশম শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই পেয়েছি। সপ্তম, অষ্টম আর নবম শ্রেণির তিনটি করে বই এসেছে। যেভাবে বই আসছে আশা করছি এই মাসের মধ্যে সব বই চলে আসবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ৪ হাজার ৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৪ হাজার ৬৩২ জন। আর এবার নতুন বইয়ের চাহিদা ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ১৮৭ কপি। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৬, বাংলা মাধ্যমের চাহিদা ৪০ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৬ এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮৮ হাজার ৫৮৪ কপি। এছাড়াও, চট্টগ্রামের ৬ থানা শিক্ষা অফিস ও সব উপজেলা মিলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৪ জন। তার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৮ জন, বাংলা মাধ্যমে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৬ জন আর ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯০ জন। আর চট্টগ্রামের স্কুলগুলোতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৩০৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য তাদের মাতৃভাষায় লেখা বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৬৭১ কপি। যা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এবং নগরের পাঁচলাইশ থানা শিক্ষা অফিসের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা এবং গারো সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মাতৃভাষায় লেখা বই পেয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর