ফটিকছড়িতে বাড়িতে ঢুকে হামলা-ভাঙচুর, ৪ আসামি কারাগারে
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন— ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার আবু ছালেক (৪৫), দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. হোসাইন চৌধুরী (৪২), দক্ষিণ পাইন্দং এলাকার মো. সেনাউল করিম (৪০) এবং লেলাং এলাকার আবু তাহের মুহুরী (৪৮)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে ওই চার আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. মাসুদ অর রশিদ চৌধুরীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে দা, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠিসোঁটা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাড়িতে ঢুকে তারা মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে মাসুদকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার অভিযোগ করা হয়েছে। মাসুদকে উদ্ধারের জন্য তার বোন সায়রা আক্তার এগিয়ে এলে আসামিরা তার চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং মারধরের জন্য উদ্যত হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বসতঘরে আটকে রেখে বাড়ির গেটের দেয়াল, গেটের তালা ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিকৃত টাকা না দিলে মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা, লাশ গুম এবং বসতবাড়ি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরও বাড়ির সামনে মহড়া দিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া অব্যাহত ছিল বলে মামলায় বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ি থানায় মামলা করেন মাসুদ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বসতঘরে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।’
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর













