Cvoice24.com

কুতুপালংয়ে অপহৃত শিশু দুই দফায় বিক্রি, গ্রেপ্তার ৫

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৫:২৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুতুপালংয়ে অপহৃত শিশু দুই দফায় বিক্রি, গ্রেপ্তার ৫

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত আট মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। অপহরণের পর ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শিশুটিকে দুই দফায় বিক্রি করার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উখিয়ার বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় মায়মুনা আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—  রশিদ আলম (৩০), তার স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮), তসলিমা আক্তার (২৫), মায়মুনা আক্তার (২৯) ও তার স্বামী নুরুল আমিন (৩৮)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুতুপালং ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-২ ব্লকের বাসিন্দা তৈয়বা বেগম তার সাত বছর বয়সী ভাগনি রেহেনা ও আট মাস বয়সী ছেলে কাদেরকে নিয়ে কুতুপালং বাজারে যান। বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে গেলে তৈয়বার সাবেক স্বামী মো. রশিদ আলম তার কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে যান। পরে তৈয়বার মুঠোফোনে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন রশিদ আলম। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য রশিদ আলমকে ক্যাম্প-২ ওয়েস্টে তৈয়বার শেডে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনি জানান, তার বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী তসলিমা আক্তারের কাছে শিশুটিকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। পরে তসলিমা ও রুজিনাকেও সেখানে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার মায়মুনা আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আমিনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পরে বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক ও অপারেশন কর্মকর্তা সুমন ভক্তের নেতৃত্বে পুলিশ পশ্চিম মরিচ্যায় অভিযান চালিয়ে মায়মুনা ও নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কক্সবাজার সব খবর