উখিয়ায় ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: ঢাকায় গ্রেপ্তার আরো ১
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি মো. ইউছুপকে (৩১) ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার ইউছুপ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্জরপাড়া গ্রামের মহি উদ্দিন ও ছেনুয়ারা বেগমের ছেলে। তিনি ওই মামলার ৫ নম্বর আসামি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পালংখালী বাজারের আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের জমা করা অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে গত ১৯ আগস্ট উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৮ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২১ জন গ্রাহকের হিসাবে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা জমা ছিল।
গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের হিসাবের সঙ্গে জমার রসিদের মিল নেই। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এরপর গত ২২ আগস্ট পালংখালী স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন করেন কয়েকশ গ্রাহক। কর্মসূচি শেষে তারা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মামলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পালংখালী এজেন্ট শাখার এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের জমা করা অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং হিসাবের নথি ও জমার রসিদ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউছুপকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ইউছুপকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
এর আগে, গত ১৮ আগস্ট এজেন্ট শাখার মালিক হাকিম উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
কক্সবাজার সব খবর















