সীতাকুণ্ডে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় হামলা, আহত ১৫
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া নিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর বাড়বকুণ্ডের মাহমুদাবাদ গ্রামে উত্তর মাহমুদাবাদ জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে মো. ফারুক নামে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ গ্রামের উত্তর মাহমুদাবাদ জামে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয় মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দিদারুল কবিরের কাছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কিছুদিন ধরে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে দিদারুল কবিরের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দিদারুল কবিরের নেতৃত্বে ৫০ হতে ৬০ জন উচ্ছৃখল যুবক জামায়াতের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চারজন গুরুতর আহত ও আরো ১০ জন বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তবে জামায়াত নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় বিএনপিও জড়িত বলে অভিযোগ করছে।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মঞ্জু বলেন, ‘দিদারুল কবিরের নেতৃত্বে বিএনপি’র কিছু ভাসমান ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ছুরি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আহত জামায়াত কর্মী ফারুককে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবু সুফিয়ান, পারভেজ ও হাসান সহ সর্বমোট অন্তত ১৪ জন নেতাকর্মী বিভিন্নভাবে আহত হয়।’
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটা কোন দলীয় বিষয় নয়। সবাই কোন না কোন দলের সমর্থন করে এই কারণে হয়তো দলের নামটা চলে এসেছে। তবে এখানে মূলত মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছে। জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বসে মীমাংসা করে নিব।’
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সভাপতিকে মসজিদ কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। বিএনপির কোন নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নয়।"
তবে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দিদারুল কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, ‘বাড়বকুণ্ডের মারামারি ঘটনাটা আমরা অবগত হয়েছি। এটা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।’
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর














