Cvoice24.com

আমাদের সবার অবস্থা খুবই খারাপ: অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি

প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১২:৪৩, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
আমাদের সবার অবস্থা খুবই খারাপ: অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি

‘আমি অসুস্থ। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। একটু পর হয়তো কথা বলতে পারব। আমরা সবাই খুবই অমানবিক অবস্থার মধ্যে দিন পার করছি। আমাদের সবার অবস্থা এখন খুবই খারাপ।’—নিজ কার্যালয়ে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর গণমাধ্যমের কাছে এভাবেই নিজের শারীরিক অবস্থা ও দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অসুস্থতার কথা জানান তিনি। উপাচার্য বলেন, ‘আমি অসুস্থ। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। আমি একটু পর হয়তো কথা বলতে পারব। আমি আর কথা বলতে চাচ্ছি না। আমি রেস্টে ছিলাম।’

পরে সাংবাদিকেরা আবার তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই খুবই অমানবিক অবস্থার মধ্যে দিন পার করছি। আমাদের সবার অবস্থা এখন খুবই খারাপ। শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ।’

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপাচার্যসহ ১০ থেকে ১১ জন ভবনের ভেতরে আটকা রয়েছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তাঁদের কয়েকজন অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তার সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্তও তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তার সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

চিকিৎসক আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম এর আগে জানিয়েছিলেন, ভবনের ভেতরে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাঁদের জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় অন্যরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন বলে জানান তিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

নতুন উপাচার্যের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে উপাচার্যের ভবনের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে একই দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনের কারণে এত দিন তাঁকে ক্যাম্পাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে দেখা যায়নি।

আন্দোলনের কারণে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও। নতুন উপাচার্যকে ঘিরে সৃষ্ট সর্বশেষ অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ক্যাম্পাস সব খবর