‘আর ফিরবেন না’ শর্তে চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য
নিউজ ডেস্ক, সিভয়েস২৪
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে পুলিশি নিরাপত্তায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়া হয়।
তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে উপাচার্যের সামনে শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’
এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদে তারা উপচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য।
গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ওই দিন থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরপর ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।
এদিকে, নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার (১২ অক্টোবর) শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ক্যাম্পাস সব খবর













