আস্ত খাসি খেয়ে বিয়ে করলেন ‘সেই জোনায়েদ’
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
খাসির মাংস না থাকায় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার জাপানপ্রবাসী তরুণ জোনায়েদ মিয়া। সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে বিয়ে করেছেন তিনি। আর এবার বিয়েতে তার সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়েছে—‘খদরে’ ছিল আস্ত খাসি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার খবর জানান জোনায়েদ।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের কনের মামা তাজু সরকারের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নতুন কনে জান্নাত আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর জোনায়েদ মিয়া কসবা উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে।
বিয়ের পর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জোনায়েদ লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
জোনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ জানান, নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) পাশের আখাউড়ার তোলতলা গ্রামে বিয়ে করতে গিয়ে ‘খদরে’ খাসির মাংস না থাকায় আপত্তি তুলে বিয়ে না করে ফিরে যান জোনায়েদ। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জোনায়েদ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছিলেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করেছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তবে কনেপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত ফর্দনামায় ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বরপক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেনও তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, অতিরিক্ত কাবিনের দাবির অভিযোগ মিথ্যা। তার ভাষ্য, মূলত খাবার নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর পরিস্থিতি খারাপ হয়। বরকে অনেক বোঝানোর পরও তিনি ক্ষমা চাইতে রাজি হননি। পরে কনেপক্ষই সিদ্ধান্ত নেয়, এমন ছেলের কাছে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে না।
কনের স্বজনদের ভাষ্য, বরযাত্রীদের খাওয়ানোর সময় স্থানীয় রীতিতে ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। বড় একটি থালায় পোলাও, মাংসসহ বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করে বর ও তার স্বজনেরা একসঙ্গে খান।
সেই ‘খদরে’ খাসির মাংস না থাকায় আপত্তি তোলেন জোনায়েদ। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। তার ভাই ও স্বজনেরা বিষয়টি মেনে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি বিয়ে করবেন না বলে জানান বলে কনেপক্ষের দাবি।
একপর্যায়ে জোনায়েদ তার ভাইকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি বিয়ে করবেন না, প্রয়োজন হলে তার ভাই যেন বিয়ে করেন। খাসি ছাড়া খাবেন, তবে এরপর আর কখনো শ্বশুরবাড়িতে আসবেন না—এমন কথাও তিনি বলেছিলেন বলে কনের স্বজনেরা জানান।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বর ও তার স্বজনদের চলে যেতে বলা হয়। বিয়ের জন্য বরপক্ষের নিয়ে আসা জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আশিক মিয়ার ভাষ্য, খদরে খাসির মাংস না থাকাকে কেন্দ্র করেই মূলত ঝামেলার সূত্রপাত হয়েছিল।
তবে সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে বিয়ে করলেন জোনায়েদ। আর এবার তার বিয়ের ‘খদরে’ আস্ত খাসি থাকায় আগের ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সব খবর















