Cvoice24.com

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ‘জর্জ ওয়াশিংটন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭:৫৭, ২১ আগস্ট ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ‘জর্জ ওয়াশিংটন’

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। রণতরীটির নেতৃত্বাধীন জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এটি একটি নির্ধারিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে বুধবার মধ্যপ্রাচ্যের তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছায়। জর্জ ওয়াশিংটন মূলত জাপানভিত্তিক মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবাহী রণতরী।

জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে আগমন এমন সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নিজ দেশে ফেরার পথে রয়েছে।

প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে লিংকন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। রণতরীটি প্রায় নয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দীর্ঘ এই মোতায়েন নিয়ে রণতরীটির ক্রুদের মানসিক চাপ, সরবরাহ সংকট ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য জাহাজটির ক্রুদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন।

জর্জ ওয়াশিংটনের আগমনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরালো হলো। এরই মধ্যে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক সম্পদ ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে জর্জ ওয়াশিংটনকে জাপান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি কমেছে। বিশ্লেষকদের কাছে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি—দুই দিকই পাশাপাশি এগোচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে পেন্টাগনের তথ্যভান্ডারের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যাও প্রায় দুই ডজনের কাছাকাছি। তবে আহত ও নিহতদের ঘটনা ঠিক কোন কোন সংঘাতে ঘটেছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনা, সামরিক অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো জটিল।

আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনের আগমনকে নিয়মিত সামরিক রোটেশনের অংশ হিসেবে দেখানো হলেও, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এর কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। ফলে তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় অগ্রগতি না হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও কতটা বাড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদেশ সব খবর