Cvoice24.com

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০:৩৩, ১১ আগস্ট ২০২৬
কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো।

ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে সরকার।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।

চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে ছিল ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র। তবে উপকেন্দ্রের আশপাশের তুলনায় অনেক দূরের শহরগুলোতেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি পেরেইরা। উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শহরটির ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ধ্বংসাবশেষ এবং ধুলোর মেঘ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। 

ভূমিকম্পের সময় কালিতে থাকা লন্ডনের বাসিন্দা ড্যান কাটলার বিবিসিকে বলেন, তিনি এর আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি।

২৯ বছর বয়সী এই পর্যটক জানান, ভূমিকম্পের ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি ও তার সঙ্গী পাজামা পরেই হোটেল থেকে বাইরে দৌড়ে বেরিয়ে যান।

তাদের হোটেলটি বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির মুখে না পড়লেও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং কিছু জায়গা থেকে রং ও প্লাস্টার খসে পড়ে।

ভূমিকম্পে মানিজালেস, কিবদো ও মেডেলিনসহ বিভিন্ন শহরেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মানিজালেসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।

শহরটির একটি হোটেলে থাকা অ্যাঞ্জেলিকা আভিলা বলেন, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়।

‘সবাই চিৎকার করছিল,’ বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন তিনি।

পাশের ভবনগুলো থেকে ধুলা বের হতে এবং দেয়াল থেকে ইট খসে পড়তেও দেখেছেন তিনি।

মানিজালেসে থাকা সাংবাদিক ও আবহাওয়াবিদ লুইস ফেলিপে মোলিনা বলেন, ভূমিকম্পের সময় তার ভবনটি টিকে গেলেও তাকের অধিকাংশ বই মেঝেতে পড়ে যায়। ভাঙা কাচের শব্দের পাশাপাশি মানুষের চিৎকারও শুনতে পান তিনি।

বিমানবন্দরেও ক্ষয়ক্ষতি

কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানী বোগোটাতেও ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। গাছপালা ও ট্রাফিক সিগন্যাল কেঁপে ওঠে এবং কিছু ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

তবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। মাত্র শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া এই প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি অর্থ পুনর্বণ্টন করতে পারবে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জরুরি কর্মী ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে কলম্বিয়াকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। 

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলেও কলম্বিয়ার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার অভিযানে জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ৭ মাত্রার কাছাকাছি শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন।

সংস্থাটি বলছে, গভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম বিপজ্জনক। তবে গভীর ভূমিকম্পও বিপুল শক্তি নির্গত করতে পারে এবং ভবনের ক্ষতি করতে পারে। এ ধরনের ভূমিকম্পে আফটারশকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সেগুলোর কিছু শক্তিশালী হতে পারে।
 

অন্যদেশ সব খবর