থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিতে হামলাকারীসহ নিহত ৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে হামলাকারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতজনে। এরপর অভিযুক্তের বাড়িতে তার দাদা ও দাদির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার হলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় নয়জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা পো তেক টুং ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরা গুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বেগুনি রঙের শারীরিক শিক্ষা (পিই) পোশাক পরা এক শিক্ষার্থী স্কুল চত্বরে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার সময় সে ২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক, তিনজন শিক্ষার্থী এবং হামলাকারী রয়েছেন। আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী স্কুলটির অষ্টম শ্রেণির (মাথায়ম–২) একজন শিক্ষার্থী। ৯ মিলিমিটার পিস্তল দিয়ে হামলা চালানোর পর সে স্কুলের একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় নিজেকে আটকে ফেলে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে নিজের গুলিতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
হামলার পর তদন্তকারীরা অভিযুক্তের ননথাবুরির ব্যাং বুয়া থং এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার দাদা ও দাদির মরদেহ উদ্ধার করেন। দুজনের মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, স্কুলে হামলা চালানোর আগে তাদের হত্যা করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় ও পুরো ঘটনার ক্রম এখনো তদন্তাধীন।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় এবং পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে ফেলে। উদ্ধার ও তদন্তকাজে বিঘ্ন এড়াতে সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার না করার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
অন্যদেশ সব খবর















