Cvoice24.com

৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯:০৬, ২৫ জুলাই ২০২৬
৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় দিল্লিতে সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই ছিল আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির নেতারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় সদিচ্ছার ভিত্তিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌরভ দাস বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়া এবং এনইইটি (নিট) প্রশ্নফাঁস–সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি মিলেছে।

তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সিজেপির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব মৌলিক দাবি গ্রহণ করেছে। এগুলো কোনোভাবেই অযৌক্তিক ছিল না।’

আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায় পুলিশ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এ আন্দোলনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে।

সৌরভ দাস জানান, সিজেপি আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবিপত্রও সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রায় চার সপ্তাহ পর আবারও সরকারের সঙ্গে বৈঠক হবে।

সিজেপির দাবি, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও সরকার প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। সৌরভ দাস বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দিল্লিতে দায়ের হওয়া প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এফআইআরের কপি তাদের দেওয়া হবে এবং দ্রুত সেগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তার একটি খসড়া সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়ার আশ্বাসও পেয়েছেন তারা।