Cvoice24.com

ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে মার্কিন সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩:০৪, ২০ জুলাই ২০২৬
ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার দাবি করেছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে একটি অবিস্ফোরিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরেক সেনা আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নিহত সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর আগে, শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। রবিবার সেন্টকম জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যা শনাক্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

গত মাসের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকায় এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগান এলাকায় হামলা চালিয়েছে। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদান শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, হামলার ঘটনাটি তারা তদন্ত করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থাপনাটিতে আগুন লাগে। সরকার এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জর্ডানে নিযুক্ত ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপকভাবে শাহেদ ধরনের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করছে। 
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রতিটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। বিপরীতে এগুলো ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চমাত্রার সামরিক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হচ্ছে ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

অন্যদেশ সব খবর