Cvoice24.com

এসআরএইচআর ও পুষ্টি বিষয়ে কর্মশালা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর গুরুত্বারোপ

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
২৩:৫০, ২১ জুলাই ২০২৬
এসআরএইচআর ও পুষ্টি বিষয়ে কর্মশালা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর গুরুত্বারোপ

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর), পুষ্টি এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে নীতিগত সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক মিডিয়া সেনসিটাইজেশন কর্মশালায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নগরের লালখান বাজারের এক রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত ‘এসআরএইচআর এবং পুষ্টির জন্য নীতিগত সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মিডিয়া সেনসিটাইজেশন কর্মশালা’ আয়োজন করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। 

‘হেলথ সিস্টেম রেজিলিয়েন্স ফর ইমপ্রুভড এসআরএইচআর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় সহযোগী সংস্থা বাপসা ও মমতা যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। এতে সহযোগিতা দিচ্ছে কানাডার হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, একটি টেকসই ও সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সঠিক তথ্যপ্রবাহকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্ভুল তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আলোচনায় নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর অপুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং জীবনযাত্রার প্রভাব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (ডিজিএফপি) পরিচালিত নিবন্ধিত ‘ঋতুস্রাব নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় বিভিন্ন এনজিওর সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম, ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহপাঠী প্রশিক্ষক (পিয়ার এডুকেটর) তৈরির অভিজ্ঞতাও উপস্থাপন করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পুষ্টিহীনতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. কামরুল আজাদ বলেন, মা, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী ও সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এসআরএইচআর প্রকল্পের টিম লিডার শামিমা চৌধুরী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব।

মুক্ত আলোচনা পর্বে সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজলভ্য করা, দুর্যোগকালীন সময়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালার সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম কোচি, বাপসার নির্বাহী পরিচালক ড. আলতাফ হোসেন এবং ইপসার পরিচালক নাসিম বানু।

বক্তারা বলেন, একটি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, স্বাস্থ্যখাতের প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও আয়োজকরা এসআরএইচআর, পুষ্টি এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর