ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ইস্যুতে ফের ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
সদ্য অনুমোদিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবিতে আবারও ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। রবিবার (২৬ জুলাই) থেকে টানা দুই দিন বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক ও বাগমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক।
তিনি বলেন, নতুন ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর এমন স্থানে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য সুবিধাজনক নয়। গেজেট অনুযায়ী সদর দপ্তর সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলার নিকটবর্তী পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপন করা হয়েছে। এতে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ভোগান্তিও দূর হবে না।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে, যাতে উত্তরাঞ্চলের সব ইউনিয়নের মানুষ সহজে প্রশাসনিক সেবা পেতে পারেন।
একরামুল হক জানান, এ দাবিতে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা আগামী রবিবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করবেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভায় উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, নির্ধারিত স্থানটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উপযোগী নয়। তারা চান, ভূজপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে নতুন উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক।
তাদের ভাষ্য, ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সিদ্ধান্ত উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবা প্রাপ্তিতে কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনবে না। তাই জনগণের সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
এর আগে, একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দারা হরতাল পালন করেন। ওই দিন নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ও ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমীন, বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এ বি এম সিদ্দিক এবং ছাত্র প্রতিনিধি শেখ জাহিদ ও মো. ইমাম উদ্দিন।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর












