Cvoice24.com

জামায়াতের এমপির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
১৩:৩৫, ২১ জুলাই ২০২৬
জামায়াতের এমপির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমে দলীয় মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই বলেছেন, ভিডিওটি এআই নয়; এতে থাকা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ দাবি করেন। একই সঙ্গে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ব্ল্যাকমেইল ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন।

এর আগে, সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান, কথা বলা এবং ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও।

তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স তাদের অনুসন্ধানে জানায়, ভিডিওটিতে এআই বা ডিজিটাল কারসাজির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি একটি আসল সিসিটিভি ফুটেজ। তাদের প্রকাশিত বিশ্লেষণে ফুটেজে ২০২৩ সালের ১ জুলাই তারিখ দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গত ১৭ জুন ২০২৬ পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম বেগমকে তিনি বিয়ে করেন।

তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে ঢাকার মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তাদের গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ বাইরে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে এসে তাদের জিম্মি করেন। এ সময় এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়ি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্য, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে চালক ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওবায়দুল্লাহ তার ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে। অথচ ভিডিওতে থাকা নারী তার বৈধ স্ত্রী। এ ঘটনাকে তিনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ব্ল্যাকমেইল এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমানও বলেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়।

তবে বিষয়টি ঘিরে নতুন প্রশ্নও উঠেছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে ভিডিওতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই তারিখ দেখা গেলেও, এমপির দাবি অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জুন। এই সময়গত অসামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের নির্বাচনে জমা দেওয়া তার হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো তথ্য না থাকায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি।

রাজনীতি সব খবর