খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু, তেহরানে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে তার মরদেহ নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই শোকানুষ্ঠান।
ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন। ১৯৮৯ সালে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষের উপস্থিতির রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের অনুষ্ঠান।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই শোকানুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলায় তেহরানে তার কম্পাউন্ড লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ওই হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাও নিহত হন।
প্রাথমিকভাবে মার্চে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
সাত দিনের শোকানুষ্ঠান
শুক্রবার তেহরানে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর টানা সাত দিন ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে জানাজা, শোকযাত্রা এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার ও রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
সোমবার ও মঙ্গলবার শোকযাত্রা যাবে ইরানের কোম শহরে। বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর নাজাফ ও কারবালায় শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে আগামী শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। মাশহাদেই জন্ম হয়েছিল খামেনির।
যেসব দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা থাকছেন
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এ ছাড়া তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ, ভারতের প্রতিনিধিদলে বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি থাকছেন।
চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে গেছেন।
নিরাপত্তা ও সতর্কবার্তা
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেবেন না বলে তার ভারতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হত্যার হুমকির পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন করে হামলা না চালানোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থাকে (ইসরায়েল) যেকোনো ভুল হিসাব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’
অন্যদেশ সব খবর















