গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ঋণের সুদ মওকুফসহ ‘মোরাটোরিয়াম’ চায় চিটাগং চেম্বার
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে দেশের শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ, তিন মাসের কিস্তি স্থগিত এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের অবকাশ বা ‘মোরাটোরিয়াম’ চেয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে পৃথক চিঠি দিয়ে এসব প্রস্তাব দেন চিটাগং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত লে-অফে যেতে বাধ্য হয়েছে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটানো উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আগামী কয়েক মাসও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শিল্পখাতকে বহন করতে হতে পারে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তাদের ওপর ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা চাপিয়ে দিলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন হবে।
চিটাগং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রি ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও যদি তাদের উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বোঝা বহন করতে হয়, তাহলে তা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে।’
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি সরকারের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও এটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ জানিয়েছে চিটাগং চেম্বার।
সংগঠনটি প্রস্তাব দিয়েছে, অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো শিল্পকারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে জরিমানা ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্বকাল বা ‘মোরাটোরিয়াম’ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে মাসিক ভিত্তিতে বিল পরিশোধের বর্তমান নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চেম্বার সভাপতি চিঠিতে বলেন, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে সৃষ্ট অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি থেকে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে।
চিঠির শুরুতে সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন মোহাম্মদ আমিরুল হক। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশ তীব্র সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের পথে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিটাগং চেম্বারের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং শিল্পকারখানার আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশের শিল্পোৎপাদন, রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থ-বাণিজ্য সব খবর














