Cvoice24.com

পাকিস্তানের নতুন সৌন্দর্যদূত মিসবাহ আরশাদ

বিনোদন ডেস্ক
১৮:০৪, ২১ আগস্ট ২০২৬
পাকিস্তানের নতুন সৌন্দর্যদূত মিসবাহ আরশাদ

একটি মুকুট। কয়েক মিনিটের প্রশ্নোত্তর। আর তার পেছনে লুকিয়ে থাকা বছরের পর বছর চেষ্টা, ব্যর্থতা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ফিলিপাইনে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬’-এর মুকুট জিতেছেন মিসবাহ আরশাদ।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ পাকিস্তানি নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন তিনি। তবে মিসবাহর কাছে এটি কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জয় নয়। তার নিজের ভাষায়, জীবনের পথে ব্যর্থতা আসবেই; গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ব্যর্থতার পর আবার উঠে দাঁড়ানো।

ফিলিপাইনের মঞ্চে বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর মিসবাহ আরশাদের মাথায় বিজয়ের মুকুট তুলে দেন তার পূর্বসূরি রোমা রিয়াজ। এরপর মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক জশ ইউগেন তাকে অফিসিয়াল স্যাশ পরিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে মিসবাহ শুধু একটি প্রতিযোগিতার বিজয়ী নন—তিনি হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের নতুন প্রতিনিধি।

মনোবিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী চূড়ান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেন। ‘১০ বছরের মিসবাহই কঠিন প্রশ্ন করবে’

চূড়ান্ত পর্বে ফিলিপিনো সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা বেইলি মে মিসবাহকে একটি ব্যতিক্রমী প্রশ্ন করেন। যদি তার ১০ বছর বয়সী রূপ এবং ৮০ বছর বয়সী রূপ একই কক্ষে মুখোমুখি হয়, তাহলে কার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তার জন্য বেশি কঠিন হবে?

মিসবাহর উত্তর ছিল—১০ বছর বয়সী মিসবাহর প্রশ্নই হবে বেশি কঠিন। কারণ সেই ছোট্ট মিসবাহ জানতে চাইবে, বড় হয়ে তার জীবন কেমন হয়েছে। এই উত্তরের ব্যাখ্যায় মিসবাহ তুলে ধরেন নিজের জীবনের দর্শন। তিনি জানান, শৈশবের নিজের কাছে তিনি বলতে চান—জীবনে বহুবার ব্যর্থ হলেও তিনি প্রতিবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

তার বক্তব্যে উঠে আসে একটি গভীর উপলব্ধি—জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয়; ব্যর্থতা, ঘুরে দাঁড়ানো এবং নিজের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই জীবনের সৌন্দর্য তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে মিসবাহ আরশাদ অবশ্য নতুন নন। এর আগে জাপানে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ২০২৩’ এবং পোল্যান্ডে ‘মিস সুপ্রান্যাশনাল ২০২৪’-এ পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। অর্থাৎ ২০২৬ সালের এই মুকুট তার প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। বরং এটি তার দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আর সেই পথচলায় ব্যর্থতাও ছিল। কিন্তু মিসবাহ ব্যর্থতাকে নিজের পরিচয়ের অংশ হতে দেননি। ‘ব্যর্থতা দিয়ে সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না’ নিজের দীর্ঘ যাত্রা নিয়ে মিসবাহর উপলব্ধি আরও স্পষ্ট। তার মতে, ব্যর্থতা দিয়ে কারও সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না। বরং প্রয়োজন আশা ধরে রাখা এবং প্রতিটি পদক্ষেপে নিজেকে আগের চেয়ে আরও উন্নত করার চেষ্টা।

মুকুট জয় অবশ্যই বড় অর্জন। তবে তার কাছে এই পথচলায় পাওয়া শিক্ষা এবং মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই মিসবাহর এবারের জয়কে শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ফল হিসেবে দেখলে হয়তো তার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই বাদ পড়ে যাবে।

মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রথম বছরই ইতিহাস তৈরি করেন এরিকা রবিন। এল সালভাদরে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্সে পাকিস্তানের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ‘টপ ২০’-এ জায়গা করে নেন। এরপর ২০২৪ সালে মেক্সিকোতে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন নূর জারমিনা। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেন রোমা রিয়াজ। পরবর্তীতে রোমা রিয়াজ মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ফ্র্যাঞ্চাইজির জাতীয় পরিচালকের দায়িত্ব নেন। নতুন প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজেও যুক্ত হন তিনি। আর এবার সেই ধারাবাহিকতায় সামনে এলেন মিসবাহ আরশাদ।

জাতীয় মুকুট এখন অতীত। মিসবাহর সামনে এবার আরও বড় মঞ্চ। পুয়ের্তো রিকোতে আয়োজিত হতে যাওয়া ৭৫তম মিস ইউনিভার্সের মূল প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। সেখানে তার সঙ্গে থাকবে শুধু একটি মুকুটের পরিচয় নয়, থাকবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বও। আর মিসবাহর নিজের গল্পই হয়তো তার সবচেয়ে বড় শক্তি—ব্যর্থতার পরও থেমে না যাওয়া। কারণ সৌন্দর্যের মঞ্চে মুকুট হয়তো মাথায় ওঠে একদিন। কিন্তু সেই মুকুটের পেছনের গল্প তৈরি হয় বহু বছরের অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসে।