শান্তর একটাই লক্ষ্য, আরও পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট
ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের উচ্ছ্বাস এখন অতীত। সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন কন্ডিশন এবং নতুন পরীক্ষা। ডারউইন টেস্টে স্বপ্নের জয় তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার প্রস্তুত ম্যাকাইয়ের লড়াইয়ের জন্য।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা টাইগাররা শনিবার (২২ আগস্ট) দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামছে। এই ম্যাচে জয় কিংবা ড্র করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় এক সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।
তবে বড় অর্জনের হাতছানি থাকলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এখনই ভবিষ্যতের ফল নিয়ে ভাবতে চান না। তার লক্ষ্য—বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়া, সেশন ধরে ধরে ভালো ক্রিকেট খেলা।
ম্যাকাই টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে শান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, ডারউইনের সাফল্য নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘জয় অবশ্যই আত্মবিশ্বাস দেবে। তবে পেশাদার খেলোয়াড়দের খুব দ্রুত সেখান থেকে ফিরে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
টাইগার অধিনায়কের মতে, ফলাফল নিয়ে আগেভাগে চিন্তা করলে চাপ বাড়ে। বরং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলেই সাফল্য আসবে।
শান্ত বলেন, ‘যদি আমাদের প্রসেস ঠিক থাকে, আমরা যদি সেশন বাই সেশন ভালো খেলতে পারি, ফলও সেভাবেই আসবে। আগে থেকেই ফল নিয়ে চিন্তা করলে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে যাবে।’
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ শুধু জয়ই পায়নি, ব্যাটিং-বোলিং—দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে টাইগার ব্যাটাররা দেখিয়েছেন অসাধারণ ধৈর্য।
তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। অধিনায়ক শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ করেন গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক। মুমিনুল হকের ৪৯ রানও দলের বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে।
অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সই বাড়িয়েছে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস।
শান্ত বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি, যদি এই ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করতে পারি, তাহলে যেকোনো দলের বিপক্ষেই ভালো করা সম্ভব।’
ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ের উইকেটে বাড়তি বাউন্সের প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে ব্যাটারদের সামনে নতুন ধরনের পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
তবে শান্ত মনে করেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখানে ডারউইনের তুলনায় একটু বেশি বাউন্স থাকতে পারে। তবে আমরা এমন উইকেটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও কাছাকাছি ধরনের উইকেটে খেলেছি, তাই আমাদের ধারণা আছে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে।’
নেটে গত কয়েকদিন ব্যাটাররা নিজেদের কৌশল ও শট নির্বাচনের বিষয়েও কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।
শান্ত মনে করেন, সব টেস্ট একই পরিকল্পনায় খেলা যায় না। প্রতিটি ম্যাচে উইকেট, পরিবেশ ও প্রতিপক্ষ অনুযায়ী কৌশল বদলাতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি কন্ডিশনের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করি। উপমহাদেশে যেভাবে খেলি, এখানে সেভাবে খেলা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
ডারউইনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধৈর্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা দলের উন্নতির বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রথম টেস্ট জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই দলের মধ্যে আনন্দ ও আবেগ কাজ করছে। তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করেই দ্বিতীয় টেস্টে নামতে চান শান্ত।
তিনি বলেন, ‘এটি সব খেলোয়াড়ের জন্য গর্বের মুহূর্ত। বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের জন্যও এটি আনন্দের। কিন্তু সেটি এখন অতীত। আমাদের আবারও পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্সও প্রথম টেস্টের সাফল্যের পর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
শান্ত জানান, দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা তরুণদের বোঝাচ্ছেন কীভাবে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। সামনে সুযোগ—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার। তবে শান্ত জানেন, কাজ এখনো শেষ হয়নি।
তার ভাষায়, ‘ডারউইনে আমরা দারুণ খেলেছি। কিন্তু এই ম্যাচে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার এই বোলিং ও ব্যাটিং আক্রমণের বিপক্ষে ভালো করতে হলে পাঁচ দিন ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে।’
ডারউইনের জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, কিন্তু ম্যাকাইয়ের মাঠে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করাই এখন টাইগারদের একমাত্র লক্ষ্য।
ইতিহাসের দরজা খোলা। এখন প্রয়োজন আরও একবার পরিকল্পনা, ধৈর্য আর লড়াকু ক্রিকেট।
খেলাধুলা সব খবর















