Cvoice24.com

বাবাকে শেষ বিদায় মেসির

ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
১২:৪৯, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাবাকে শেষ বিদায় মেসির

শৈশব থেকেই ছেলের প্রতিভা চিনেছিলেন তিনি। ফুটবলের প্রতি ছেলের ভালোবাসাকে স্বপ্নে পরিণত করতে পাশে ছিলেন প্রতিটি কঠিন সময়ে। সেই বাবাকেই এবার চিরবিদায় জানালেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি।

৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি হোর্হে মেসি। ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিওতে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মেসি মায়ামি থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন সন্তানকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসেন। রবিবার রোজারিওর কাছের পেরেজ শহরের একটি কবরস্থানে হোর্হে মেসির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

কঠিন এই সময়ে মেসির পাশে ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও ইন্টার মায়ামির সতীর্থদের কয়েকজন। ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো দে পলও দ্রুত আর্জেন্টিনায় ছুটে আসেন। মেসির বাবার মৃত্যুতে সতীর্থ ও সাবেক সতীর্থদের অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন।

কবরস্থানের বাইরে মেসির জন্য ভক্তদের ভালোবাসারও কমতি ছিল না। গেটে ঝুলছিল হাতে লেখা বার্তা—‘শক্ত হও লিও, আমরা তোমার সঙ্গে আছি।’ ফুলের তোড়ায় ভরে উঠেছিল কবরস্থানের আশপাশ।

১৫ বছরের এক ভক্ত লুকাস ব্লাঙ্কো সেখানে লিখে যায়, ‘মেসি, শক্ত থাকো।’ তার ভাষায়, মেসি আর্জেন্টিনাকে যে আনন্দ দিয়েছেন, তাঁর দুঃসময়ে পাশে থাকা এখন সমর্থকদের দায়িত্ব।

বুয়েনস আইরেস থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রোজারিওতে এসেছিলেন কার্লোস ও আনা দম্পতি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—মেসির পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানানো।

মেসির ফুটবলজীবনে হোর্হে মেসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু বাবা ছিলেন না, ছিলেন ছেলের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি ও ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্তগ্রহণকারী। মেসির শৈশবের ফুটবলযাত্রা থেকে শুরু করে ইউরোপে পাড়ি জমানো—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়েই হোর্হে ছিলেন তার পাশে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসি যখন বার্সেলোনায় যোগ দিতে আর্জেন্টিনা ছাড়েন, তখনও তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় পাশে ছিলেন বাবা হোর্হে। ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে তাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান মেসির জীবনের গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে হোর্হে মেসির অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসে। জুনে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর মেসির পরিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। একই সঙ্গে পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করার অনুরোধ জানানো হয়।

বিশ্বকাপের ব্যস্ততার মধ্যেও বাবার অসুস্থতা যে মেসির মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, তা তার আচরণেই ফুটে উঠেছিল। মাঠের বাইরের কঠিন সময়ের কথা তিনি নিজেও স্বীকার করেছিলেন।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। গোল উদ্‌যাপনের সময় তাকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাঠের বাইরে তিনি কঠিন ও জটিল একটি সময় পার করছিলেন এবং সতীর্থদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন।

বিশ্বকাপ শেষে পরিবারের কাছে ছুটে যাওয়ার ঘটনাও সেই সময় মেসির ব্যক্তিগত জীবনের গভীর চাপের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

ফুটবল মাঠে যার আবেগ, নেতৃত্ব আর উদ্‌যাপন কোটি মানুষকে নাড়া দেয়, বাবার শেষ বিদায়ের দিনে সেই মেসিকেই দেখা গেল নীরব ও শোকাহত অবস্থায়।

হোর্হে মেসির চলে যাওয়া শুধু একজন বাবাকে হারানোর ঘটনা নয়; মেসির জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ পথচলার একজন সঙ্গীকে হারানোরও নাম।

যে মানুষটি ছোট্ট লিওর পায়ে বল দেখেছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই মানুষটিই শেষ পর্যন্ত ছেলের বিশ্বজয়ের গল্পের নেপথ্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে রইলেন।

মেসি এখন আবার ফিরবেন ফুটবল মাঠে। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচগুলোর একটিতে এবার পাশে থাকবেন না সেই মানুষটি—যিনি শৈশব থেকে প্রতিটি বাকে ছেলের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন।

খেলাধুলা সব খবর