Cvoice24.com

কোলো-কোলোতে যোগ দিতে চিলিতে বিশ্বকাপ মাতানো ভোজিনিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
১২:২৩, ৪ আগস্ট ২০২৬
কোলো-কোলোতে যোগ দিতে চিলিতে বিশ্বকাপ মাতানো ভোজিনিয়া

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়া কেপ-ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া নতুন ঠিকানায় পা রেখেছেন। চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিতে তিনি সান্তিয়াগো পৌঁছালে বিমানবন্দরে শত শত সমর্থক তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

রবিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কোলো-কোলোর মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য বড় গর্বের। আশা করি সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।’

সোমবার (৩ আগস্ট) মেডিকেল পরীক্ষা শেষে চলতি মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য কোলো-কোলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে তাঁর। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে চিলির সবচেয়ে সফল ও সর্বাধিক শিরোপাজয়ী ক্লাবটিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি।

 এর আগে, গত দুই মৌসুম পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে খেললেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ১০ ম্যাচে সাতটি ক্লিন শিট রেখে তিনি কেপ-ভার্দেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মূল আসরেও নিজের অভিজ্ঞতার ছাপ রাখেন এই গোলরক্ষক। প্রথম ম্যাচেই ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হন। পরে নকআউট পর্বে সাবেক চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও নির্ধারিত সময়ে অসাধারণ সব সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। যদিও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় কেপ-ভার্দেকে, তবুও ভোজিনিয়ার একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।

টুর্নামেন্ট শেষে সমর্থকদের ভোটে তিনি জায়গা করে নেন ফিফা বিশ্বকাপের সেরা একাদশে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোলো-কোলোতে যোগ দিয়ে নিজের জনপ্রিয় ডাকনাম ‘ভোজিনিয়া’ লেখা জার্সি পরেই মাঠে নামবেন তিনি। চিলিয়ান লিগের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত খেলোয়াড়দের জার্সিতে পারিবারিক নাম ব্যবহার করা হয়। তবে ভোজিনিয়ার বিশ্বকাপজুড়ে জনপ্রিয়তা বিবেচনায় বিভিন্ন ক্লাব কর্মকর্তার অনুরোধে চিলির ফুটবল ফেডারেশন (এএনএফপি) তাঁকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে।

পূর্ণ নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস হলেও ফুটবল বিশ্বে তিনি ভোজিনিয়া নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং দুর্দান্ত শট-স্টপিং দক্ষতার জন্য তিনি বরাবরই প্রশংসিত।

কোলো-কোলো আশা করছে, ভোজিনিয়ার অভিজ্ঞতা তাদের লিগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে বিশ্বকাপের নায়কও নতুন চ্যালেঞ্জে নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মুখিয়ে আছেন।