Cvoice24.com

জুয়েলার্স থেকে কৌশলে দুই কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি, গ্রেপ্তার ৬

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:৫৭, ২১ আগস্ট ২০২৬
জুয়েলার্স থেকে কৌশলে দুই কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে কৌশলে চুরি করা প্রায় দুই কোটি টাকার ৯৯ ভরি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মহানগরের প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত নিউ কনক বাহার জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম, যা ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপ্লব বসাক (৫৩)। সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন রোমেন দে (৩৬)।  গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের স্টাফরা নিয়মিত মজুদ স্টক মিলাতে গিয়ে স্বর্ণের অলংকারের হিসাবে অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি তারা মোবাইল ফোনে দোকানের মালিককে জানান।

খবর পেয়ে মালিক দ্রুত দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হলে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন সেলসম্যান রোমেন দে। এরপর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান তিনি। 

পরে দোকানে এসে মালিক ও অন্য স্টাফরা মজুদ মিলিয়ে দেখতে পান, রোমেন দের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। এসব চুড়ির পরিবর্তে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ৫৩টি চুড়ির মোট ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম বা ৭৯ দশমিক ৫১ ভরি এবং আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।

এ ঘটনায় পরদিন ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকানের মালিক। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তি ও গুপ্তচর সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানাধীন ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দে (৩৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও স্বর্ণ বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রাখার কথা জানান রোমেন দে।

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহ (৪৭)-এর কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিয়াখান নগর রোডে তার মালিকানাধীন ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’ থেকে ৭টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির মোট ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম। শ্যামল সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, তার কাছে বন্ধক থাকা বাকি স্বর্ণের চুড়িগুলোর একটি অংশ তিনি বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে দিয়ে রেখেছিলেন।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার(২০ আগস্ট) কোতোয়ালী থানার মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স থেকে ৩টি (৫৮.৮৫ গ্রাম), সাহা জুয়েলার্স থেকে ১৬টি (৩১৮.৬৯ গ্রাম), লিটন মহাজন থেকে ১টি (২৯.৪৬ গ্রাম), সাগর কারিগর থেকে ৫টি (১০৯.৭৩ গ্রাম), পার্থ মহাজন থেকে ১১টি (২৫০.৩৮ গ্রাম) এবং রুবেল মহাজন থেকে ৩টি (৮০.৬২ গ্রাম) স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এর মধ্যে বাকলিয়া থানাধীন মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স থেকে ৩টি (৬৩.০১ গ্রাম) ও শাহ আমানত জুয়েলার্স থেকে ৩টি (৪৭.৯৭ গ্রাম) এবং চকবাজার থানাধীন 
ফেন্সী জুয়েলার্স থেকে ২টি (৩৯.৪৪ গ্রাম) ও তাজমহল জুয়েলার্স থেকে ১টি (১৭.৭৯ গ্রাম) স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা চুড়িগুলোর মোট ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম, যা ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

পুলিশ বলছে, আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

সিএমপির পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও স্বর্ণ লেনদেনের বিষয়গুলোও যাচাই করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর