Cvoice24.com

বাঁশখালীতে গৃহবধূর মৃত্যু, পল্লিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ

বাঁশখালী প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৪:৫০, ১১ অক্টোবর ২০২৬
বাঁশখালীতে গৃহবধূর মৃত্যু, পল্লিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ডেঙ্গু জ্বরজনিত জটিলতায় রিটা সোলতানা (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।  শুক্রবার (৯ অক্টোবর) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিহত রিটা সোলতানার বাবার বাড়ি উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজীরতলা এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়ি বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল এলাকায়। তার ছয় মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিটা সোলতানা বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এ সময় তিনি সরল ইউনিয়নের খালাইচ্ছার দোকান এলাকার পল্লিচিকিৎসক জমির উদ্দিনের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জলদী আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ এবং পল্লিচিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় তিন বছর আগে এক প্রসূতির স্তনে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মাহমুদুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ওই ঘটনায় তাকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

এ ছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক বলেন, কয়েক বছর আগে পেটের ত্বকে দাদে আক্রান্ত এক রোগী জমির উদ্দিনের কাছে গেলে তাকে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। পরে রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয় বলে ওই চিকিৎসক জানান।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুমিনুল হক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে অপচিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জটিল রোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার কারণে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী বলেন, ‘বৈলছড়িতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয় মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।’

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বর এবং এর ফলে সৃষ্ট হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতা জীবনঘাতী হতে পারে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসায় যথাযথ চিকিৎসা-প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা প্রয়োজন।

অভিযুক্ত পল্লিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত পল্লিচিকিৎসক জমির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।