Cvoice24.com

দিল্লিতে মমতা, কেজরিওয়াল ও বিজয়নসহ একাধিক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭:২৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬
দিল্লিতে মমতা, কেজরিওয়াল ও বিজয়নসহ একাধিক আটক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। এ সময় মমতাসহ তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সংসদ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। একই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের।

আটক হওয়া তৃণমূলের সংসদ সদস্যরা হলেন— দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বের হওয়ার সময় বাধার মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।

সেখান থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হলে মমতা দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে বাসভবনের সামনের বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাসভবন থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সুযোগ না পাওয়ায় তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে সড়কের পাশে অবস্থান নেন।

আটকের আগে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, তারা আন্দোলনে যোগ দিতে বের হয়েছিলেন। জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তার অভিযোগ, সিজেপির কর্মীদেরও আটক করা হয়েছে এবং অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মমতা আরও বলেন, তারা সব সময় ছাত্র ও তরুণদের পাশে রয়েছেন। যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডেই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

পরে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় বাসের ভেতর থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছে। জনগণের দাবি আদায় এবং তাদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংগ্রাম রাজপথে অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে দীর্ঘ সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে একই এলাকা থেকে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও পুলিশ হেফাজতে নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল দলটি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করে পুলিশ। শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজ থেকে অভিজিৎকে আটক করা হয়। তার সঙ্গে থাকা সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কার নামের আরও দুজনকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।