দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়লো মার্কিন সেনারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারাও চলে যান। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।
ঘটনাটিকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে বাগদাদ। এ উপলক্ষে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
২০১১ সালে সেনাদের একটি বড় অংশ প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী অভিযানের জন্য আবারও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।
২০২৪ সালে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে সমঝোতা হয়। তখন ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছর তাদের অধিকাংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যায়ে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় কিছু সেনা অবস্থান করছিলেন।
মার্কিন সেনা চলে যাওয়ায় ইরাকিদের একাংশ আনন্দ প্রকাশ করলেও নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর বলেন, ইরাকের জনগণ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়। তবে বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক প্রস্তুত কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে এসব গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান লাভবান হতে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে একটি সামরিক ভারসাম্য তৈরি করেছিল মার্কিন উপস্থিতি।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরাক সরকারের দৃষ্টিতে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসান দেশের সার্বভৌমত্বকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন সেই সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে পারে বাগদাদ—সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন।
অন্যদেশ সব খবর















