উস্কানি-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান চট্টগ্রাম বিএনপির
সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
উস্কানি, গুজব ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। নেতারা বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই প্রতিরোধের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা এ আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তার অভিযোগ, স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
দেশের বাইরে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার বক্তব্য, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলা করা হবে।
তবে একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের উসকানি ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান মীর হেলাল। তিনি শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন। ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
তিনি বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র বা নৈরাজ্য মোকাবিলার বড় শক্তি সাংগঠনিক ঐক্য। তাই সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং দলীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। তার অভিযোগ, স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে এবং তাদের সচেতন করতে হবে। যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা বলেন আবু সুফিয়ান।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বা বোমা হামলার মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রতিরোধের নামে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান। সাঈদ আল নোমান বলেন, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।
সমাবেশে মহানগর বিএনপি এবং যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, তাঁতীদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি সব খবর















