Cvoice24.com

হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবানন থেকে সেনা সরাবে না ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২:১৫, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবানন থেকে সেনা সরাবে না ইসরায়েল

পুরো লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার বা অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

দক্ষিণ লেবাননের ‘আলী আল-তাহের’ পাহাড়চূড়ার দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো ব্যক্তিকে ‘নির্মূল’ করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাৎজ।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং তাদের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে। হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো পক্ষ যাতে সেখানে পুনরায় অবস্থান তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কাৎজ আরও বলেন, ‘আলী আল-তাহের’ পাহাড়চূড়া ইসরায়েলের চিহ্নিত তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ ও ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর অংশ। এই অঞ্চল লেবাননের ভেতরে প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পুরো লেবাননে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার বা অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে লেবানিজ কর্তৃপক্ষ বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ‘আলী আল-তাহের’ পাহাড়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায় ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের দাবি, বিস্ফোরণের মাধ্যমে দুই কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত হিজবুল্লাহর একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এলাকাটিকে ইরানের বাইরে অবস্থিত ‘বৃহত্তম ইরানি ঘাঁটি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

লিটানি নদীর উত্তরে কফর তিবনিত ও নাবাতিয়ে আল-ফাওকার মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এই পাহাড়চূড়া থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়। সামরিক দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটি সম্পূর্ণ ‘শত্রুমুক্ত’ করেছে।

লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা দখলে রেখেছে। এর মধ্যে কয়েক দশক ধরে দখলে থাকা ভূখণ্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে দখল করা নতুন এলাকাও রয়েছে।