নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫২, নিখোঁজ ৯৭৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে চলতি সপ্তাহে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ৫৪৭ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৯৭৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তিব্বত সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে এই বন্যায় বেশ কয়েকটি গ্রাম ও বিভিন্ন প্রকল্পের স্থাপনা ভেসে গেছে। এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৫২ জনে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলার মধ্যে শুক্রবার তিব্বতে একটি ধ্বংসাবশেষের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর নেপাল কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক ঢলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে ১৪ হাজার ৮২৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নেপালে থাকা ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কাঠমান্ডু থেকে ২১ জন ভারতীয় নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, একটি হিমবাহ ধসে এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। এর ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
হিমবাহ ধসের ফলে বরফ ও কাদার স্রোতের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়। শুক্রবার তিব্বতে এমনই একটি জলাধার ভেঙে নতুন করে পানির ঢল নামায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বন্যার পানি ভুটে কোশি নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পানির স্রোত তিব্বতের দিক থেকে এসেছে। আকস্মিকভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রাসুয়া জেলার তিমুরে ও এর কাছের সিয়াফ্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে বলে নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধান ও দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছেন।
সূত্র- এনডিটিভি
অন্যদেশ সব খবর















