বিদেশি নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশি কোচেই আস্থা সুজনের
ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং কাঠামোয় স্থানীয় কোচদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তার বিশ্বাস, আধুনিক ক্রিকেটের কৌশল ও টেকনিক শেখানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোচরা বিদেশিদের তুলনায় কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। বরং দীর্ঘ সময় দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে স্থানীয় কোচদের কাছ থেকেই বেশি সুফল পাওয়া সম্ভব।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশি কোচদের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে সুজন বলেন, বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন কোচ ইতোমধ্যে লেভেল-৩ কোচিং সম্পন্ন করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে তাদের সুযোগ আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল।
বর্তমানে আশরাফুল, তালহা, সালাউদ্দিন, সোহেল ও বাবুলের মতো কোচদের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করতে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে জুনিয়র ও এইচপি পর্যায়ে স্থানীয় কোচদের সম্পৃক্ততাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সুজন।
তার যুক্তি, ক্রিকেট এমন কোনো জটিল বিষয় নয় যে বিদেশি কোচরাই কেবল তা ভালোভাবে শেখাতে পারবেন। ইনসুইং বোলিংয়ের গ্রিপ থেকে শুরু করে ব্যাটিংয়ের টেকনিক—ক্রিকেটের মৌলিক বিষয়গুলো সারা বিশ্বেই একই। পার্থক্য মূলত ব্যাখ্যা করার ভাষায়।
সুজনের মতে, এই জায়গায় বরং স্থানীয় কোচদের বাড়তি সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের কাছে বাংলায় কোনো বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলে তারা সেটি দ্রুত বুঝতে পারে।
তবে দেশি কোচদের ওপর আস্থা রাখলেও বিদেশি কোচদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার কথা বলছেন না সুজন। তার মতে, দলের নির্দিষ্ট কোনো ঘাটতি পূরণে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি বিশেষজ্ঞ নেওয়া যেতে পারে।
ব্যাটিং, বোলিং কিংবা নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতার উন্নয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগের সুযোগ রাখা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো উচিত।
এ প্রসঙ্গে সুজনের বক্তব্য, বিদেশি কোচ এলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। যদিও কিছু বিদেশি কোচের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে ফাস্ট বোলিং কোচদের পাশাপাশি সাবেক ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির সময় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে উন্নতির কথাও উল্লেখ করেন সুজন।
আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও বাংলাদেশের স্থানীয় কোচরা ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন সুজন। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে একেবারে অজানা নয়।
দেশি কোচদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হিসেবে তিনি দেখছেন ধারাবাহিকভাবে দলের সঙ্গে থাকার সুযোগকে। বিদেশি কোচরা অনেক সময় সিরিজ বা সফরকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করেন। সফর শেষ হলে ছুটিতে চলে যাওয়ায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।
অন্যদিকে স্থানীয় কোচরা সফর শেষ হওয়ার পরও ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সুজন।
সুজন বলেন, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ কীভাবে সাজানো যেতে পারে, সে বিষয়েও নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি। তার মতে, বোলিং কোচ হিসেবে তালহা ও সোহেলের মতো স্থানীয় কোচদের আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। ব্যাটিংয়েও আশরাফুলকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
তার প্রস্তাব, একজন স্পিন কোচ, একজন ফাস্ট বোলিং কোচ এবং একজন ফিল্ডিং কোচ—এভাবে দায়িত্ব ভাগ করে দিলে কোচিং কাঠামো আরও কার্যকর হতে পারে। তবে সহকারী কোচের দায়িত্ব কী, সেটিও পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সুজনের মতে, দলের মূল পরিকল্পনা কোচ ও অধিনায়ককে কেন্দ্র করেই হওয়া উচিত। সহকারী কোচদের কাজও সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার। আলাদা আলাদা দায়িত্ব তৈরি হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
বিদেশি কোচ নিয়োগের বিরোধিতা না করলেও সুজন মনে করেন, কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে দলের প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত করা জরুরি। স্থানীয় কোচের দক্ষতা নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হলে বিদেশি কোচ নেওয়া যেতে পারে।
তবে শুধু বিদেশি বলেই একজন কোচ স্থানীয় কোচের চেয়ে ভালো হবেন—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সুজনের বিশ্বাস, বাংলাদেশের স্থানীয় কোচদের যথাযথ সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব দেওয়া হলে তারাই একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় পরিসরে কাজ করার মতো কোচ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
খেলাধুলা সব খবর















