আমার টিম আমাকে ডিজওন করেছে: দেশে ফিরে বাঁধন
ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
ইতালির মেস্ত্রে শহরে হামলার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে তিনি দাবি করেছেন, হামলার ঘটনার পর ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার সঙ্গে থাকা সিনেমার টিমের কয়েকজন সদস্যও তার পাশে থাকেননি। বরং উৎসবের বাকি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছে।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। তার অভিযোগ, মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বাঁধন জানান, ঘটনার পর ইতালি সরকার, বাংলাদেশ সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
দেশে ফিরে হামলার পর ভেনিসে পাওয়া সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’
তবে নিজের সিনেমার টিমের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বাঁধনের ভাষ্য, ‘আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে।’
টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার পরিকল্পনাতেও তাকে নিষেধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী। তবে সহ-অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।
হামলার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতালি সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন বাঁধন।
তিনি বলেন, ঘটনার রাতেই বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও পুলিশ বিভাগ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে বলে দাবি করেন বাঁধন।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডো এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।
দেশের মানুষের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিভিন্ন পক্ষের মানুষ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তিনি মনে রাখবেন।
বাঁধন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।’
বাঁধন জানান, ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে তিনি মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া এখন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।
এদিকে বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে যাওয়া বাঁধনের সফর শেষ পর্যন্ত হামলা, নিরাপত্তা এবং দলীয় রাজনীতির বিতর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশে ফিরে অভিনেত্রীও বলেছেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিনোদন সব খবর















