Cvoice24.com

বাকলিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ‘মুরাদ বাহিনীর’ প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১২:১২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাকলিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ‘মুরাদ বাহিনীর’ প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ‘মুরাদ বাহিনীর’ প্রধান হিসেবে পরিচিত মো. মুরাদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—সুমন (৩৫) ও রুহুল আমিন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে বাকলিয়া থানা-পুলিশ অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে মুরাদ, সুমন ও রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় জসিমসহ আরও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুরাদ ও জসিমের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রবিবারের সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, মুরাদ দীর্ঘদিন ধরে বাকলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়ার বাসিন্দা মুরাদ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তিনি একটি বলয় গড়ে তোলেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘মুরাদ বাহিনী’ নামে পরিচিত।

অন্যদিকে, একসময় মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন জসিম—এমন দাবি রয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের। প্রায় এক বছর আগে দুজনের সম্পর্কের অবনতি হলে জসিম মুরাদের কাছ থেকে মাদক নেওয়া বন্ধ করে অন্য উৎস থেকে সংগ্রহ শুরু করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। পরে তিনি নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলেন।

এরপর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও বাড়ে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, মুরাদের বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

মুরাদের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিওও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

তবে এমদাদুল হক বাদশা এর আগে বলেছেন, মুরাদ তার অনুসারী নন। কারও অপরাধের দায় দল নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে মুরাদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।