Cvoice24.com

এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে মজুত-সরবরাহে কড়া নজর

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৫:৫৭, ৯ অক্টোবর ২০২৬
এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে মজুত-সরবরাহে কড়া নজর

এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর গঠন করা হয়েছে তদারকি কমিটি। পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক জানান, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে এবং বাকি ১৪টি মোংলায় অবস্থিত। চট্টগ্রামের প্ল্যান্টগুলোতে কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং সেই গ্যাস কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন। সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির মাধ্যমে আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমদানির পর কতটুকু গ্যাস পরিবেশকদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কী পরিমাণ খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কোথাও গ্যাস আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ না থাকে।

এদিকে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এলপিজির দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকরের পর ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করছে জেলা প্রশাসন।

ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, কিছু ডিলার কারসাজির মাধ্যমে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। তবে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, অভিযোগ না থাকলেও বাজার তদারকি বন্ধ করা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ শতাংশ। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও এর সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি ও মূল্য কারসাজি প্রতিরোধে অভিযান ও তদারকি চলবে।