এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে এ চুক্তি সই হয়।
বেসরকারি-সরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
এর আগে গত ১ অক্টোবর বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনার লক্ষ্যে রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিল বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। বুধবার (৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলু কবির মিন্টু চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দেন।
তাদের দাবি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিয়ে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে চুক্তি করা হলে তা ইতিহাসে ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বিবৃতিতে কমিটির নেতারা বলেন, এনসিটি পরিচালনার চুক্তির শর্ত, পরিচালনার অধিকার, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্টভাবে অবহিত না করে চুক্তি স্বাক্ষরের আয়োজন উদ্বেগজনক। উন্নয়ন ও বিনিয়োগের কথা বলে জনমত উপেক্ষার এই প্রক্রিয়াও গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে তারা বন্দরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট জনগণের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বন্দর রক্ষা কমিটি আরও বলেছে, জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের ওপর রাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। জনমত উপেক্ষা করে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর ভবন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। কাস্টমস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় দিনভর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামি শ্রমিক সংঘের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর












