Cvoice24.com

চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারের দাবি সিইউজের

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:১৭, ৭ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারের দাবি সিইউজের

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নির্দেশনা জারির ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনটি এ নির্দেশনাকে ‘নজিরবিহীন ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ এবং অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

সিইউজের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে নিরাপত্তার প্রশ্নকে ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার স্বীকৃত এবং ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিইউজে নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা দেশের প্রচলিত আইন, পেশাগত নীতিমালা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কী যাবে না— এ ধরনের নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে আলোচনা, প্রশ্ন ও আন্দোলন চলছে। এমন সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করে সিইউজে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, বন্দর ঘিরে সিদ্ধান্ত, পরিচালনা, চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ করা যাবে না।

সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং জনস্বার্থের তথ্য গোপন করার চেষ্টা হলে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি বাড়তে পারে। নিরাপত্তার নামে সংবাদ প্রকাশ বন্ধের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তারা অবিলম্বে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে— এমন অস্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

একই সঙ্গে নিরাপত্তার নামে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের কোনো উদ্যোগ চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না বলে সতর্ক করেন তারা। জনস্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।