রাবিতে মোবাইল সাংবাদিকতা নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ
সিভয়েস২৪ ডেস্ক
‘মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের গল্পকথক তৈরি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মোবাইল সাংবাদিকতা (MoJo) নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, তৈরি ও উপস্থাপনের বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ক্লাসরুম টু নিউজরুম: মোবাইল জার্নালিজম (MoJo) ট্রেনিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড স্ট্রিংগার ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক কর্মশালাটির আয়োজন করে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)।
কর্মশালার অংশ হিসেবে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ও টিবিএসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল এবং টিবিএসের হেড অব মাল্টিমিডিয়া মজুমদার বাবু।
সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার্থীরা টিবিএসের সঙ্গে কাজ, পেশাদার নিউজরুমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজেদের তৈরি সংবাদ ও অন্যান্য কনটেন্ট প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কর্মশালার আহ্বায়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিহুর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মশিহুর রহমান। পরে বক্তব্য দেন টিবিএসের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান মজুমদার বাবু। ‘ক্লাসরুম টু নিউজরুম’ প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং কর্মশালার লিড ট্রেইনার রাজীব নন্দী।
মজুমদার বাবু ও অধ্যাপক রাজীব নন্দী কর্মশালার মূল সেশন পরিচালনা করেন। এ ছাড়া টিবিএসের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইরফান ও এসআর শাওন মোবাইল সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক উপস্থাপনা করেন। কর্মশালায় বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে এমএসএস প্রথম সেমিস্টারের ৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয় শিখলেও বাস্তবে কীভাবে ও কোথায় সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে হবে, সেখানে একটি ঘাটতি থেকে যায়। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ঘাটতি কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাস্টারক্লাস, লেকচার, সেমিনার, যৌথ কার্যক্রম ও ফিল্ড রিপোর্টিংয়ের মতো বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। কর্মশালাটিকে শুধু প্রশিক্ষণ হিসেবে না দেখে বাস্তব কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হিসেবে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
টিবিএসের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান মজুমদার বাবু বলেন, ‘কানেক্টিং টু দ্য নিউজরুম’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টিবিএসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকেই তারা টিবিএসের নিউজরুমের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারবেন এবং সেখানে কীভাবে কাজ হয়, সে সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা টিবিএসের জন্য প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশের সুযোগ পাবেন। তাদের কাজ নিউজরুমে মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রকাশিত কাজের জন্য সম্মানীও দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই শিক্ষার্থীরা পেশাদার নিউজরুমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
কর্মশালায় রাজীব নন্দী বলেন, মোবাইল সাংবাদিকতা শুধু মোবাইল ফোন দিয়ে সাংবাদিকতা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বহনযোগ্য যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করে সাংবাদিকতা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। ড্রোন, ডিএসএলআর বা অন্যান্য বহনযোগ্য ক্যামেরা দিয়েও মোবাইল সাংবাদিকতা করা সম্ভব। তবে সহজলভ্যতা ও নানা সুবিধার কারণে মোবাইল ফোন এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
তিনি বলেন, ‘গল্প বলার ধরনটা চেঞ্জ হচ্ছে, ডিভাইসটা চেঞ্জ হচ্ছে। কিন্তু গল্প বলাটা ঠিকই আছে।’ প্রযুক্তির নতুন মাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি সাংবাদিকতার প্রচলিত নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পত্রিকা পড়তে অনেক কষ্ট করতে হতো। বৃষ্টি উপেক্ষা করে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ডায়েরিতে লিখে রাখতেন তারা। এখন মোবাইলের এক ক্লিকেই সারা বিশ্বের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের তথ্য পাওয়ার সুযোগ সহজ করেছে।
তিনি বলেন, টিবিএসের সঙ্গে বিভাগের এ চুক্তি শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেবে।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরনও বদলে গেছে। কম্পিউটারে কম্পোজ থেকে সফটওয়্যারনির্ভর সংবাদ সম্পাদনা, টেলিভিশন, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার পর মোবাইল ফোন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হয়ে উঠেছে। তাই শুধু মোবাইলে ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারলেই হবে না, এর মাধ্যমে সাংবাদিকতার খুঁটিনাটিও শেখা প্রয়োজন।
টিবিএসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা টিবিএসের সঙ্গে বিভিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে সহযোগিতা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী কে এম সিদ্দিক, তাসিন সিদ্দিকা রূপা ও প্রান্ত কুমার দাশ।
ক্যাম্পাস সব খবর















