Cvoice24.com

এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে ৫ অক্টোবর বন্দরে অবস্থান

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:০২, ৩ অক্টোবর ২০২৬
এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে ৫ অক্টোবর বন্দরে অবস্থান

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনায় বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। দাবি আদায়ে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবকাঠামো হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সুবিধা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি মূল এজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়নি কেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। তাই এটি ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়।

এ ধরনের চুক্তির আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশি অপারেটরের অধীনে পরিচালনায় রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

বন্দর রক্ষা কমিটি জানায়, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নয়। তবে জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হওয়া ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।

ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এমন সময়ে এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর কারণ জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে তাদের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন, প্রতীকী অনশন, কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়; বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল, সিসিটি ইজারার উদ্যোগ নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক ও নেতাদের হয়রানিমূলক বদলি কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক হয়রানি না করার আহ্বান জানায় কমিটি।

আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে বন্দরের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ সময় এনসিটি ও সিসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন প্ল্যাটফরম, সংগঠন ও জোটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, শ্রমিক দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাসহ বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।