শসা চাষে বদলে গেছে ২০০ কৃষকের ভাগ্য
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
একসময় এসব জমিতে চাষ হতো ধান। উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় বিকল্প ফসলের সন্ধানে কৃষকেরা যান কৃষি বিভাগের কাছে। পরামর্শ মেনে শুরু করেন শসা চাষ। এরপর বদলে যেতে থাকে পুরো গ্রামের চিত্র। কক্সবাজারের পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের মালপাড়া গ্রাম এখন বিস্তীর্ণ শসার ক্ষেত আর ব্যস্ত কৃষকের কর্মচাঞ্চল্যে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘শসা গ্রাম’ হিসেবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মালপাড়া গ্রামের প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে দলগতভাবে শসা চাষ করছেন প্রায় ২০০ কৃষক। গ্রামের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা মেলে শসার ক্ষেত। মৌসুমজুড়ে ক্ষেত থেকে নিয়মিত শসা সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা। উৎপাদিত শসা কিনতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা গ্রামে আসছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে এসব জমিতে ধান চাষ করা হতো। ধান চাষে প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় তারা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যান। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরীর পরামর্শে শসা চাষ শুরু করেন তারা। প্রথমদিকে কয়েকজন কৃষক শুরু করলেও ফলন ও বাজার ভালো পাওয়ায় ধীরে ধীরে অন্যরাও এ চাষে যুক্ত হন।
কৃষকদের ভাষ্য, শসার চাষে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে চাহিদাও রয়েছে। ফলে ধানের তুলনায় এ ফসলে তারা বেশি লাভের সম্ভাবনা দেখছেন। উৎপাদিত শসা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারদের কাছেও যাচ্ছে।
শসা চাষের প্রভাব শুধু কৃষকের জমিতেই সীমাবদ্ধ নেই। এ চাষকে ঘিরে গ্রামে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বেড়েছে।
স্থানীয় নারী শ্রমিকেরা জানান, আগে নিয়মিত কাজের সুযোগ ছিল না। এখন শসার ক্ষেতে কাজ করে তারা আয় করছেন। এতে সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের আয়ে তারাও ভূমিকা রাখতে পারছেন।
টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জেড এম মোসলেম উদ্দিন বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকেরা শসা চাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছেন। কৃষকদের আরও প্রশিক্ষণ, সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এ অঞ্চলে শসা চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মালপাড়া এখন আমাদের জন্য একটি মডেল। আমরা তাদের বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছি। এই সাফল্যে স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং নারীদের কর্মসংস্থানও বাড়ছে। আমরা চাই এই মডেল পুরো পেকুয়ায় ছড়িয়ে দিতে।’
কক্সবাজার সব খবর















