Cvoice24.com

জুলাই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ : রাশেদ খাঁন

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১৮:১৫, ৩ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ : রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের কৌশলগত রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের মূল সমন্বয় হয়েছিল তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মোরারপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ের এই দায়িত্ব পালন না করতেন, তাহলে ৩৬ দিনের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফলভাবে সম্পন্ন হতো কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’

এর আগে, সকালে চকরিয়া উপজেলায় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে রাশেদ খান বলেন, যারা এ আন্দোলনে বিএনপির অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগই উত্তর।

তিনি বলেন, ‘ওয়াসিমের শ্রদ্ধেয় পিতার পাশে দাঁড়িয়ে এবং তার কবর জিয়ারত করে নিজেকে ধন্য মনে করছি। যে বেদনা ও কষ্টের কথা আমি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমেদের মুখে শুনেছিলাম, আজ শহীদ পরিবারের পাশে এসে সেই স্মৃতি মনে পড়ছে।’

২০২৪ সালের আন্দোলনের রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তাকে ও ভিপি নুরুল হক নুরকে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে পুনরায় কোটা ব্যবস্থা চালুর পর তিনি তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, তার বক্তব্য ছিল, আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

তার ভাষ্য, ‘তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমেদ তখন মূল সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন। একদিকে ছাত্ররা রাজপথে লড়াই করেছে, অন্যদিকে আমরা পেছন থেকে রাজনৈতিক কৌশলগত সহযোগিতা নিশ্চিত করেছি।’

গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার বিচার হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য নানা জটিলতা ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ বা তার বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদসহ আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কবর জিয়ারত শেষে ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলমের কাধে হাত রেখে রাশেদ খান বলেন, ‘আপনি এতটুকু বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ আপনি পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিসৌধে আসেন। তাই সেখানে প্রবেশের প্রধান সড়কটির টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ শিগগিরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নেবেন।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুটের এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, ‘এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, বিশ্বাস রাখেন, সব সমস্যার সমাধান তিনিই করবেন।’

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, তাঁতীদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, গণঅধিকার পরিষদের কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রাইম কাদের, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্যসচিব আবুল কাশেম নুরী, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা হিরণ সরওয়ারসহ বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।