Cvoice24.com

শিপ ইয়ার্ডে মৃত্যুহার শূন্যে নামাতে ক্যামেরায় নজরদারির পরামর্শ

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
১৮:২৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিপ ইয়ার্ডে মৃত্যুহার শূন্যে নামাতে ক্যামেরায় নজরদারির পরামর্শ

জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ঘরে বসেই ক্যামেরার মাধ্যমে শিল্পকারখানা ও ইয়ার্ডের কার্যক্রম নজরদারি করা সম্ভব।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের হোটেল আগ্রাবাদে ‘বাংলাদেশে টেকসই জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচি’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, একই সঙ্গে চায় মৃত্যুহার জিরো হোক। শিল্পায়নের সঙ্গে রিস্ক ফ্যাক্টর আছে, সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।’

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যামেরা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আধুনিক যুগ। ঘরে বসেই শিল্পকারখানা ও ইয়ার্ড ক্যামেরায় দেখা যায়। প্রযুক্তি সুযোগ দিয়েছে, ব্যবহার করুন। পানির দামে ক্যামেরা পাওয়া যায়। এক প্যাকেট সিগারেটের দামে ক্যামেরা পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইয়ার্ডের কার্যক্রম দেখা সম্ভব। তাই শুধু অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হতে হবে।

জাহাজভাঙা শিল্পে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের ব্যবসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্প পুরোনো। বর্তমানে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে উঠছে। শিল্পটি ‘যান্ত্রিক দানবের মতো’; একটু অসতর্ক হলেই বিপদ ঘটতে পারে।

সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একসময় জাহাজভাঙা শিল্পে ‘জিরো ক্যাজুয়ালিটি’ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে আগের তুলনায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমেছে। সম্প্রতি যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য কোনো ধরনের মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। এটি নতুন একটি অভিজ্ঞতা।

দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নতুন শিক্ষা পেলাম। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না হয়, সেই কাজটি কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডিগুলোর সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার পথ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাজ তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন নীতিমালা রয়েছে উল্লেখ করে মহসিন বলেন, জাহাজ তৈরির সময়ই ২০–২৫ বছর পর সেটি কোথায় পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি পরিবেশবান্ধব কি না, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে জাহাজ নির্মাতারও কিছু দায়ভার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে আরও নিরাপদ পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং পরিবেশবান্ধব ইয়ার্ডে নিরাপদে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার পথ সহজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএসবিআরএ সভাপতি।