Cvoice24.com

ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে ‘লেক্সাস-বিএমডব্লিউ’ গাড়ি, আটক চট্টগ্রাম বন্দরে

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক
২০:২৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে ‘লেক্সাস-বিএমডব্লিউ’ গাড়ি, আটক চট্টগ্রাম বন্দরে

‘পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবক্সসহ ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন’ ঘোষণা দিয়ে জাপান থেকে আনা একটি কনটেইনারে মিলেছে বিলাসবহুল তিনটি গাড়ির খণ্ডিত অংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অভিযান চালিয়ে এসব গাড়ির অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটক চালানটির শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন এসব তথ্য জানান।

আটক গাড়ির অংশের মধ্যে রয়েছে লেক্সাস এলএক্স-৬০০, লেক্সাস এসসি-৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ-কাটসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ ও টায়ার পাওয়া গেছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপান থেকে একটি ৪০ ফুটের কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আমদানি করে। পণ্যের ঘোষণায় বলা হয়, এগুলো মোটরযানের ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ এবং গিয়ারবক্স সংযুক্ত ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন।

তবে কনটেইনারে পাওয়া পণ্যের সঙ্গে ঘোষণার মিল পাওয়া যায়নি। কাস্টমস গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কনটেইনারের সামনের দিকে সাধারণ পুরোনো যন্ত্রাংশ সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। এর আড়ালে তিন স্তরে রাখা ছিল বিলাসবহুল গাড়ির বড় বড় খণ্ডিত অংশ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সম্পূর্ণ গাড়ি আমদানির পরিবর্তে এসব গাড়িকে ফ্রন্ট কাট, রিয়ার বা টেইল কাটসহ কয়েকটি বড় অংশে ভাগ করে আংশিক সংযোজিত অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরে সেগুলো খালাস করে দেশে পুনরায় সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে ব্যবহার বা বিক্রির উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এ ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-কর অনেক বেশি। গাড়ির ধরনভেদে শুল্কযোগ্যতার হার ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, এই উচ্চহারের শুল্ক-কর এড়াতেই ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালানটি আটক করা হয়েছে। আমদানিকারককে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও তারা এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর প্রায় এক মাস পার হলেও আমদানিকারকের পক্ষ থেকে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। পরে চালানটি নিলাম প্রক্রিয়ায় চলে যায়। এ অবস্থায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পণ্য পাওয়া যায়।

সাগর সেন বলেন, আমদানিকারক বা অন্য কেউ এসব পণ্য খালাস করতে চাইলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এর আগে মোংলা বন্দর দিয়েও মিথ্যা ঘোষণায় বিলাসবহুল গাড়ির চালান আনার চেষ্টা করেছিল। ফলে ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেসের আমদানি কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।