৪০ লাখ টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে আসছে কার্পেটিং
লোহাগাড়া প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা আধুনগর-হরিণা সড়কের কার্পেটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টানলেই কার্পেটিং উঠে আসছে। এ ঘটনায় কাজের মান ও তদারকি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আধুনগর–হরিণা সড়কের বৌদ্ধ মন্দির থেকে ঠান্ডা আমিনের ঘাটা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন রমজান ট্রেডিংয়ের ঠিকাদার মোহাম্মদ আবু তোরাব। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে আপত্তি ছিল। সড়কের কিছু অংশে দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারেও কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এতে কাজের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় মঈন উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অপেক্ষায় ছিল। সংস্কারের পর সড়কটি টেকসই হবে বলে এলাকাবাসী আশা করেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টানলেই কার্পেটিং উঠে আসছে।
তিনি বলেন, সড়কে ব্যবহৃত পাথর ও বিটুমিনের মান এবং পরিমাণ যথাযথ ছিল কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। চলমান কাজে উপজেলা এলজিইডির লোকজন থাকার কথা থাকলেও তাদের দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, সড়কের যে অংশে রাতে কাজ করা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে কার্পেটিং সহজেই উঠে আসতে পারে।
তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কারকাজ যাতে টেকসই ও মজবুত হয়, সে বিষয়েও তাদের বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মোহাম্মদ আবু তোরাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় কথা বলতে তার কষ্ট হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, কার্পেটিং করার পর সেটি শক্ত হতে ৭২ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। এর আগে হাত দিয়ে টানলে কার্পেটিং উঠে যেতে পারে। তবে যেসব স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেসব জায়গায় পুনরায় কাজ করে দেওয়া হয়েছে।
রাতে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, কাজের মাঝি কাউকে না জানিয়ে রাতে কাজ শেষ করে চলে যান।
লোহাগাড়া এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী হামিদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার খবর পেয়ে ওই অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ অংশে পুনরায় কাজ করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, পুনরায় কাজ শুরুর আগে কার্পেটিংয়ের মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী ও কাজের পরিমাণ যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এ সংস্কারকাজ টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকিও দাবি করেছেন তারা।
চট্টগ্রাম (মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ) সব খবর











