Cvoice24.com

কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
১১:৩১, ৭ অক্টোবর ২০২৬
কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার

রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাশিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনী জাহাজটিতে থাকা ২৩ ভারতীয় নাবিককে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কৃষ্ণ সাগরের রুশ উপকূলের কাছে সোচির নিকটবর্তী সাইরিয়াস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আফ্রাম্যাক্স রিও’ নামের ট্যাঙ্কারটি একটি নৌ-ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত তা পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধারকারী দল জাহাজটির কাছে পৌঁছানোর সময় আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। আগুনের তীব্রতার মধ্যেও জাহাজে থাকা ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়। নাগরিকদের তাদের সবাই ভারতীয় বলে জানানো হয়েছে।

নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে সমুদ্রের ওপর ট্যাঙ্কারটিতে বড় বড় আগুনের শিখা এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ঘটনার পর সাইরিয়াস এলাকার উপকূল ও সমুদ্রসৈকতে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে রুশ কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ইউক্রেনীয় হামলা হিসেবে দেখছেন। জাহাজটি রুশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে আগে থেকেই ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কৃষ্ণ সাগরের আরেক ঘটনায় বুলগেরিয়ার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ড্রোনগুলোর উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও অঞ্চলটিতে বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন ভবন ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দ্নিপ্রোতেও একটি শিল্প স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।

শীতকাল সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো, রেল ও যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রুশ হামলা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে কিয়েভ। ফলে কৃষ্ণ সাগর থেকে ইউক্রেনের অভ্যন্তর পর্যন্ত যুদ্ধের প্রভাব বেসামরিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর ওপরও অব্যাহত রয়েছে।