Cvoice24.com

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি, ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫:৩৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি, ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে এখন বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে তার প্রশাসনকে।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। কানসাস, টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলিনা ও আইওয়ার মতো রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যে তাদের সাফল্য নির্বাচনের ফলাফলে বড় পরিবর্তন এনেছে।

এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার দাবি, ইরান ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপের গুরুত্ব ভোটাররা বুঝলেও যুদ্ধের প্রভাবে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম তাঁদের অসন্তুষ্ট করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর পেছনে ইরানের বিষয়টি কিছুটা দায়ী। তবে একই সঙ্গে মানুষ এটাও বুঝেছে যে ইরানের ক্ষেত্রে আমি যা করেছি, তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা তার কাছে এমন কিছু আইন প্রস্তাব পাঠাবে, যেগুলো তার কাছে ‘পাগলামি’ মনে হবে। সেসব প্রস্তাবে তিনি ভেটো দেবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এমন সব প্রস্তাব পাঠাবে, যা পুরোপুরি পাগলামি। আর আমি সেগুলোতে ভেটো দেব। কয়েক মাস ধরে এভাবে ভেটো দেওয়ার পর তারা ফোন করে জানতে চাইবে, কীভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা যায়। তখন আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে কানসাসে প্রায় এক শতাব্দী পর একজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সিনেটর নির্বাচিত হওয়া। এ ছাড়া ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলিনার মতো রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। দুই ডজনের বেশি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বারবার বলেছিলেন, ভোটের ব্যালটে তার নামও রয়েছে বলে মনে করতে।

তবে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি তো ব্যালট পেপারে ছিলাম না! যদি থাকতাম, তবে আমরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতাম! বিষয়টি খেয়াল করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।